অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশল প্রণয়ন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘জ্বালানি আমাদের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। জ্বালানি নিশ্চিত করতে না পারলে স্থানীয় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’অর্থ উপদেষ্টা জানান, এই পরিকল্পনার মূল দিকগুলো হলো: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে একক কাঠামোর আওতায় আনা; অফশোর ড্রিলিং বা সমুদ্রবক্ষে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা ও দেশীয় কয়লা সম্পদ কাজে লাগানো।আগামী মাসে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকার কী ধরনের উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছে–এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা অকপটে সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সবকিছু শতভাগ অর্জন করেছি এমন দাবি করা ঠিক হবে না। কিছু প্রত্যাশা পূরণ করা যায়নি। পদ্ধতিগত জটিলতা, দক্ষ জনবলের অভাব এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির মতো চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবিলা করতে হয়েছে।’ আরও পড়ুন: পে-স্কেল নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার মন্তব্য বড় সুখবরের ইঙ্গিত?দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে দাবি করে ড. সালেহউদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ইতিবাচক। এমনকি জাতিসংঘও এসডিজি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রশংসা করছে।তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু নীতিগত সুদের হার বাড়িয়ে বা ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মূল্যস্ফীতি কেবল চাহিদা ও সরবরাহের বিষয় নয়; এখানে বাজার গতিশীলতা, মানুষের আচরণ এবং রাজনৈতিক সুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’চলমান সিলিন্ডার গ্যাস সংকট এবং এনবিআরে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এবং আন্তঃসংযুক্ত। তিনি বলেন, ‘আমি চিঠিটি দেখেছি এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া শুরু হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমানোই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’