ইরানে অন্ধকার কাটিয়ে আলো আসবেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক সম্রাজ্ঞী ও নির্বাসিত ‘যুবরাজ’ রেজা পাহলভির মা ফারাহ দিবা পাহলভি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন তিনি। ফারাহ দিবা পাহলভি ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির তৃতীয় স্ত্রী। বর্তমানে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, সেই নেতৃত্বই একসময় তার স্বামীকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। বিবৃতিতে ফারাহ বলেন, আমি জানি, সংকীর্ণমনা লোকেরা তোমাদের কণ্ঠস্বর শোনার ভয়ে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ কেটে দিয়েছে। কিন্তু জেনে রেখো, তোমাদের বার্তা এতটাই শক্তিশালী যে তা কখনোই চুপ করানো যাবে না। ইরানের জনগণকে ‘নিজের সন্তান’ হিসেবে বর্ণনা করে ফারাহ পাহলভি বলেন, শক্ত থাকো ও বিশ্বাস রাখো- শিগগিরই তোমরা ইরানে একসঙ্গে স্বাধীনতা উদযাপন করবে। অন্ধকার কাটিয়ে আলো জয়ী হবেই। ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে সাবেক এই সম্রাজ্ঞী বলেন, মনে রাখবেন, কোনো সরকারের টিকে থাকা বা কোনো স্বার্থ রক্ষার অজুহাতে নিজ দেশের মানুষের রক্ত ঝরানো কখনোই ন্যায্য হতে পারে না। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ ও ক্রোধের আর্তনাদ শুনুন। খুব দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আপনাদের ভাই ও বোনদের সঙ্গে যোগ দিন। ‘খুনিদের’ ভাগ্যের সঙ্গে নিজের ভাগ্য জড়িয়ে ফেলবেন না। ৮৭ বছর বয়সী ফারাহ পাহলভি তার ছেলে ও সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভির বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেন, সরকারি দমন-পীড়ন সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করেন,‘অন্ধকারের পর আলো আসবে’। মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, এই দমন অভিযানে এরই মধ্যে হাজারও মানুষ নিহত হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি ফারাহ পাহলভি তার স্বামী মোহাম্মদ রেজা পাহলভির সঙ্গে ইরান ত্যাগ করেন। এর মাত্র দুই সপ্তাহ পর ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি নির্বাসন থেকে দেশে ফেরেন। পরে ১৯৮০ সালে মোহাম্মদ রেজা পাহলভির মৃত্যু হয়। গত ২ জানুয়ারি ফারাহ পাহলভি বিক্ষোভকে স্বাগত জানিয়ে বলেছিলেন, এটি তার হৃদয়কে গর্বে ভরে দিয়েছে। তবে গত সপ্তাহে এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসানের দাবিতে রূপ নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতি। প্যারিসে পড়াশোনার সময় ফারাহর সঙ্গে শাহের পরিচয় হয়। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে তাদের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় তিনি ফ্যাশন ও সংস্কৃতির আইকনে পরিণত হন; এমনকি, বিখ্যাত শিল্পী অ্যান্ডি ওয়ারহলও তার প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন। তার ছেলে রেজা পাহলভি বর্তমানে প্রবাসে থাকা আন্দোলনপন্থিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন। তিনি রাতভিত্তিক সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছেন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনও কামনা করেছেন। সূত্র: এএফপি এসএএইচ