যশোরে বিএনপি নেতা খুন: সম্পত্তির লোভে হত্যাকাণ্ড ঘটায় জামাই

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে ১৫ লাখ টাকার চুক্তির কথা স্বীকার করেছেন গ্রেফতার শাহিন কাজী। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, নিহতের জামাই পরশের পরিকল্পনায় তিনটি মোটরসাইকেলে সাতজন এই কিলিং মিশনে অংশ নেন।বিকেলে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শাহিন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। শাহিন কাজী জবানবন্দিতে জানান, শ্বশুরের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গ্রাস করতেই পরশ এই হত্যার ছক আঁকেন। ঘটনার দিন (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তারা সবাই একসঙ্গে বসে মাদক সেবন করেন। সেখানেই ১৫ লাখ টাকার চুক্তি হয় এবং অগ্রিম এক লাখ টাকা ও অস্ত্র বুঝিয়ে দেয়া হয়। আরও চার লাখ টাকা ঘটনার রাতেই দেয়ার কথা থাকলেও পুলিশের তৎপরতায় তা নেয়া সম্ভব হয়নি। আরও পড়ুন: আটকের পর ডাবলুর মৃত্যু, সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চাইলেন মির্জা ফখরুল হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে শাহিন জানান, আলমগীর হোসেন অফিস থেকে বের হলে তারা তিনটি মোটরসাইকেলে তাকে অনুসরণ করেন। শংকরপুর বটতলা মোড় এলাকায় ফাঁকা জায়গায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা ‘শুটার’ মিশুক তাকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যান। গুলি লাগার পর আলমগীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে শাহিনসহ অন্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে জানান, সোমবার রাতে শহরের লোন অফিসপাড়া এলাকা থেকে শাহিন কাজীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তার বাবার নাম কিসলু কাজী। এর আগে এ ঘটনায় নিহতের জামাই পরশ, তার সহযোগী সাগর ও শুটার মিশুককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শংকরপুর এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।