পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগে নিবন্ধনে ঢাকা কিংবা বড় জেলাগুলোকে পেছনে ফেলে সারাদেশে প্রথম স্থানে রয়েছে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা) আসন।নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সশরীরে উপস্থিত না হয়েও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখেরও বেশি নাগরিক। এরমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীর সংখ্যাই বেশি। গত ১৮ নভেম্বর শুরু হওয়া অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হয় গত ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১২টায়। এতে সারাদেশে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ফেনী-৩ আসন। আসনভিত্তিক একক আধিপত্য দেখিয়েছে ফেনী-৩ আসন। দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে দেশি ও প্রবাসী মিলিয়ে মোট ১৬ হাজার ৯৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, যা দেশের ৩শ' আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ। স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আসনটিকে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮শ' জন ও নারী ২ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৫ জন, তৃতীয় লিঙ্গ ২জন, মোট ভোট কেন্দ্র ১৬১টি। আসনটিতে মোট প্রার্থী ৯ জন। এরমধ্যে বিএনপির প্রার্থী দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু, জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) আবদুল মালেক, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন থেকে এডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা মোহাম্মদ আলী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী মোহাম্মদ হাসান আহমেদ।আরও পড়ুন: ফেনীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র-মাদক উদ্ধারএ সংসদীয় আসনটি নিবন্ধনে সারাদেশে প্রথম হওয়ার বিষয়ে দাগনভূঞা ও সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জানান, ফেনী জেলা প্রশাসকের বিশেষ নির্দেশনায় এই কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসন থেকে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ফলে প্রবাসী ভোটাররা উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ফেনী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাজিম উদ্দিন বলেন, প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ও প্রবাসীদের সচেতনতার কারণেই এই আসনটি দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অ্যাপের মাধ্যমে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নাম লিখিয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৪ জন এবং নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।ভৌগোলিক ও জনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রবাসীদের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে নিবন্ধনের হার সবথেকে বেশি। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়া, যেখান থেকে ৮৪ হাজার ২৯২ জন এবং কাতার থেকে ৭৬ হাজার ১৩৯ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। এছাড়া ওমান থেকে ৫৬ হাজার ২০৭ জন প্রবাসী পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছেন। দেশের অভ্যন্তরে যারা কর্মস্থল বা অন্য কারণে নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য চালু করা ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতেও ব্যাপক সাড়া মিলেছে। এই বিভাগে মোট ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন ভোটার নিয়ে নিবন্ধনের শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা জেলা। এর পরপরই ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা এবং ৯৫ হাজার ২৯৭ জন ভোটার নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা।