ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছে রাশিয়া। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ আখ্যা দিয়েছে মস্কো।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার হুমকি ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য’। গত বছরের জুনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশটির ওপর আবারও হামলা চালানো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত থাকতে হবে।’ রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে ‘ধ্বংসাত্মক পরিণতি’ ডেকে আনবে এবং একইসঙ্গে ‘বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি’ সৃষ্টি করবে। আরও পড়ুন: ইরানের নেতৃত্ব তার ‘শেষ দিন এবং সপ্তাহগুলোতে’ পৌঁছেছে: জার্মান চ্যান্সেলর ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ডনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়ার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসব কথা বলেন। জাখারোভার বলেন, ‘ইরানের বিদেশি অংশীদারদের ওপর বাণিজ্য শুল্ক বাড়ানোর মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল করার এই বেপরোয়া প্রচেষ্টা আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।’ ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃত্রিমভাবে উসকে দেয়া এসব প্রতিবাদ ধীরে ধীরে নিষ্প্রভ হয়ে আসছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। এদিকে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের প্রেক্ষিতে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত সব বৈঠক বাতিল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নিজেই এ তথ্য জানিয়ে, বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তাও দিয়েছেন তিনি। আরও পড়ুন: খামেনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ‘অ্যাকশন’ চান ইরানের নোবেলজয়ী শিরিন! ইরানের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, ‘সহায়তা আসছে’। ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান– আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে। এমআইজিএ (মেক ইরান গ্রেট এগেইন)!!! তথ্যসূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, বিবিসি