ইরানে বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠিন পদক্ষেপ’ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ জানুারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানে বিক্ষোভকারীদের জন্য অনেক উপায়ে সহায়তা আসছে। আমাদের দিক থেকে অর্থনৈতিক সহায়তাও রয়েছে।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এরইমধ্যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে। তার দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেছে। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয় বলেও জানান ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘কতজনকে (ইরান) হত্যা করেছে—এ বিষয়ে কেউই আমাদের সঠিক সংখ্যা দিতে পারেনি। তবে মনে হচ্ছে সংখ্যাটি উল্লেখ্যযোগ্য হতে পারে।’ ইরানে চূড়ান্ত লক্ষ্য কী জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘শেষ লক্ষ্য হলো জয়। আমি জিততে পছন্দ করি।’ সিবিএস নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি দ্রুত একটি কৌশলগত সাফল্য চান—যেমনটি চলতি মাসের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে আনা কিংবা ২০২০ সালে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের সাবেক প্রধান কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার ঘটনার মতো। আরও পড়ুন: ইরানে ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকির পর কী বললো রাশিয়া? ট্রাম্প বলেন, ইরানে যা ঘটছে, আমরা চলতে দিতে পারি না। তারা যদি বিক্ষোভ করতে চায়—তা এক জিনিস। কিন্তু যখন তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করতে শুরু করে, আর এখন আপনি আমাকে ফাঁসির কথা বলছেন আমরা দেখব, সেটা তাদের জন্য কীভাবে কাজ করে। এটা ভালো কাজ করবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠিন পদক্ষেপ নেবে।’ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইরানে কাজ করা হেঙ্গাও নামে একটি একটি মানবাধিকার সংস্থার বরাতে সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় আটক এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির সরকার। বুধবার এফরান সুলতানি নামে সেই যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এরইমধ্যে তার পরিবারকে বুধবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ব্যাপারো জানানো হয়েছে। তবে তার বিচার কবে হয়েছে বা তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। গত কয়েক দিন ধরেই ট্রাম্প ইরানে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে যেকোনো সময় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। আরও পড়ুন: হুমকির পর হুমকি, ইরানে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প? যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত মাসের শেষের দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘সহায়তা আসছে’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান– আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, বিক্ষোভকারীদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে। এমআইজিএ (মেক ইরান গ্রেট এগেইন)!!! তথ্যসূত্র: সিবিএস নিউজ, বিবিসি, আল জাজিরা