মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা নদীর পাড়ে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। বাহারি ও বিশাল আকৃতির মাছ নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে মেলায় ছুটে এসেছেন বিক্রেতারা। নানা প্রজাতির মাছ দেখে উচ্ছ্বাসের কমতি নেই ক্রেতাদের মধ্যেও। হাঁক-ডাক আর মাছ প্রদর্শনের ব্যস্ততায় দুই দিনের এই মেলা বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।কনকনে শীত উপেক্ষা করে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে কুশিয়ারা নদীর তীরে শুরু হওয়া এ মেলায় ভিড় জমান নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাওড়ের পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্ত থেকে এসেছে বড় আকারের মাছ। রাতভর আইড়, বোয়াল, রুই, কাতলা, চিতলসহ নানা প্রজাতির মাছের বেচাকেনা চলে মেলাজুড়ে। মেলায় আসা বড় মাছগুলোর দিকেই থাকে সবার বাড়তি নজর। মেলা উদযাপন কমিটির সদস্যরা জানান, পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই মাছের মেলা প্রায় দুইশো বছরের পুরোনো ঐতিহ্য। এক সময় মেলাটি মুনুর মুখ এলাকায় বসত। প্রায় দেড়শো বছর আগে তা স্থানান্তরিত হয়ে কুশিয়ারা নদীর তীরে আসে। আরও পড়ুন: ভেনামি চিংড়ি চাষের উন্নতিতে সরকার কাজ করছে: মৎস্য উপদেষ্টা শেরপুর মাছের মেলা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর খান জানান, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ব্যবসা বেশ ভালো হচ্ছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিও বেশি। চলতি বছর মেলায় প্রায় ১২ কোটি টাকার মাছ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। কুশিয়ারা নদী থেকে ধরা বড় আকৃতির রুই, আইড় ও বাঘাইড় মাছ নিয়ে মেলায় বসেছেন মৌলভীবাজারের সরকার বাজার সরাপপুর গ্রামের ব্যবসায়ী জুবেল আহমদ। তিনি সময় সংবাদকে জানান, কুশিয়ারা নদীর দুটি বাঘাইড় মাছ এনেছি। একটি মাছের ওজন ৭০ কেজি এবং অপরটির ওজন প্রায় ৫৬ কেজি। বড় বাঘাইড়টির দাম চাচ্ছি আড়াই লাখ টাকা এবং অন্যটির দাম দেড় লাখ টাকা। তবে বড় মাছটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ৭০ হাজার টাকা এবং অপরটির ৫০ হাজার টাকা। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ দুটি বিক্রি করিনি। এছাড়া তিনভাই এন্টারপ্রাইজের মালিক দোলন আহমদ জানান, চলতি বছর মেলায় প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এরই মধ্যে ২০ থেকে ২১ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। বাকি মাছ বুধবারের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যাবে। এসব মাছ সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদী, হাকালুকি হাওড়, সুনামগঞ্জ এলাকা এমনকি মেঘনা নদী থেকেও সংগ্রহ করা হয়েছে। শেরপুরের মাছ ব্যবসায়ী বাহাউদ্দীন জানান, এখন পর্যন্ত বেচাকেনা আশানুরূপ হয়নি। চিতল, রুই, কাতলা, পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে মেলায় এসেছি। আরও পড়ুন: অনলাইনে মাছ বিক্রি করে জাপান প্রবাসীর বাজিমাত ক্রেতা মনজুর আহমদ জানান, ৮ কেজি ওজনের একটি ব্রিগেড মাছ কিনেছি ২ হাজার টাকায়। যদিও প্রথমে ওই মাছের দাম চাওয়া হয়েছিল ৮ হাজার টাকা। দীর্ঘ দরকষাকষির পর ২ হাজার টাকায় মাছটি কিনতে পেরেছি। একইভাবে একটি বাঘাইড় মাছের দাম চাওয়া হয় ৯০ হাজার টাকা, দর করেছিলাম ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। মেলায় অনেক ক্ষেত্রেই মাছের অস্বাভাবিক দাম হাঁকা হচ্ছে। মাছের পাশাপাশি মেলায় শিশু-কিশোরদের খেলনা, নানা ধরনের খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও বিক্রি হচ্ছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মেলার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। আয়োজকদের ধারণা, চলতি বছর এই মেলায় প্রায় ১২ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হবে।