রেজা পাহলভির সঙ্গে ট্রাম্পের দূতের বৈঠক!

ইরানজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির ক্ষমতাচ্যুত শেষ রাজা মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। প্রতিবেদনে বলা হয়, সপ্তাহান্তে নির্বাসিত ইরানি নেতা রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্টিভ উইটকফ। ইরানে বিক্ষোভ শুরুর পর এই বৈঠককে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম যোগাযোগ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বারবার রেজা পাহলভির নাম উঠে আসা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে বিস্মিত করেছে। আরও পড়ুন: হুমকির পর হুমকি, ইরানে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প? নির্বাসনে থাকা রেজা পাহলভি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে উপস্থিত হয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নিজেকে একজন বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে গত সপ্তাহে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। ৮ জানুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প পাহলভিকে একজন ‘ভালো মানুষ’ বলে অভিহিত করেন। তবে সাক্ষাতের কথা নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার সঙ্গে দেখা করাটা সমীচীন হবে না। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রেজা পাহলভির সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ইরানের বিভক্ত বিরোধী শিবিরের রাজতন্ত্রপন্থি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাহলভি রাজবংশ ১৯২৫ সাল থেকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব পর্যন্ত ইরান শাসন করে। ক্ষমতাচ্যুত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ১৯৮০ সালে মিশরে নির্বাসিত অবস্থায় মারা যান। আরও পড়ুন: ইরানে ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকির পর কী বললো রাশিয়া? গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই তেহরানকে নানা সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে যেকোনো সময় হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, গত মাসের শেষের দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৮৪৭ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, ‘সহায়তা আসছে’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান– আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড