ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করেছেন ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সমস্ত বৈঠক বাতিল করেছেন এবং তেহরানের দমন-পীড়নের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ‘প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল’ নিতে বলেছেন।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘সাহায্য আসছে।’ তবে এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দেননি। ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরে ইরানের উপর সামরিক হামলার নির্দেশ দেয়ার কথা প্রকাশ্যে বিবেচনা করছেন বলে জানান। আরও পড়ুন:অধিকার গোষ্ঠীর তথ্য / ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিহত ৬৪৬  ট্রাম্প তার ওয়েবসাইট, ট্রুথ সোশ্যাল-এ বলেন, ‘ইরানি দেশপ্রেমিকরা, প্রতিবাদ করতে থাকো – তোমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করো। খুনি এবং নির্যাতনকারীদের চিনে রাখ। তাদের বড় মূল্য দিতে হবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিক্ষোভকারীদের নির্মম হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সমস্ত বৈঠক বাতিল করেছি।’এদিকে ইরান ইস্যুতে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন, ইরানের সাথে ব্যবসা করা যেকোনো দেশকে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। মঙ্গলবার, পররাষ্ট্র দপ্তর একটি সতর্কতা জারি করে বলেছে, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন নাগরিকদের ‘এখনই ইরান ত্যাগ করা উচিত’। এদিকে, মঙ্গলবার সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘সাহায্য আসছে’  বলার অর্থ কী, ট্রাম্প সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। জবাবে ট্রাম্প বলেন, আপনাকেই এটা খুঁজে বের করতে হবে।এর আগে ট্রাম্প দাবি করেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে- তার এমন হুঁশিয়ারির পর ইরানের নেতারা আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তখন থেকেই ট্রাম্প বলেছেন, একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও আলোচনার আগে ইরানে হামলা চালাতে হতে পারে। আরও পড়ুন:ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পেরইরানে মুদ্রার পতন ও চরম মূল্যস্ফীতির কারণে ডিসেম্বরে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে সেই বিক্ষোভ সরকারবিরোধী আন্দোলনে গিয়ে দাঁড়ায়। এখন পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভে সরকারি হিসেবে ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: আল জাজিরা