সরকারি চাকরিজীবীরা কোন গ্রেডে কত মহার্ঘ ভাতা পাবেন?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পে-স্কেল ঘোষণা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও সরকারি চাকরিজীবীরা মহার্ঘ ভাতা পাবেন। নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।সূত্র বলছে, আর্থিক সংকট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনের আগে সরকার নতুন পে-স্কেল ঘোষণা নাও করতে পারে।সার্বিক দিক বিবেচনায়, নতুন পে-স্কেল কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীরা বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পাবেন। এর আওতায় প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ হারে এবং দশম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীরা ২০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গঠিত পে কমিশনের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়নি। কমিশনকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্রেমওয়ার্ক প্রস্তুত করা যায়। কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে, যা নির্বাচনের পর নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেয়া হবে। আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেল: শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর সুপারিশ নিয়ে যা জানা গেলপে-স্কেল নিয়ে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পে-স্কেল দেয়া বা না দেয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বিষয়ে বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কমিশনের ২১ সদস্য বিষয়টি বিশদ পর্যালোচনা করছেন। শিগগির তারা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে না এবং সেটাই যুক্তিযুক্ত। বর্তমান সরকার হয়তো একটি কাঠামো তৈরি করে দিয়ে যেতে পারে। তবে এর বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। আরও পড়ুন: নতুন পে-স্কেল নিয়ে যে তথ্য দিলেন গভর্নরবর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা অষ্টম বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। এর আগে ২০০৯ সালের ১ জুলাই সপ্তম বেতনকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল। সাধারণত সরকার পাঁচ বছর অন্তর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে। তবে অষ্টম বেতনকাঠামো ঘোষণার ৯ বছরের বেশি সময় পার হলেও নতুন বেতনকাঠামো না আসায় অনেক কর্মচারীর বেতন গ্রেডের শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে।এদিকে, ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা, যা জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগেই প্রায় সমাপ্ত হবে।