‘শুরুতেই বিতর্কের মুখে পোস্টাল ব্যালট’, ‘নির্বাচনের ভাগ্যও কি আমলাদের হাতেই?’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। ভোটারদের মন জয়ে ইশতেহার - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে এর আগে ঘোষিত ৩১ দফাসহ জনকল্যাণমুখী ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুত করছে বিএনপি। নতুন ভাবনার মধ্যে ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় রেখে অগ্রসর হচ্ছে দলটি। দেশ গড়ার পরিকল্পনায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের জীবনমান উন্নয়নকেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।   পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যের মূল বিষয়গুলোও ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে। আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তারেক রহমানের ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নির্বাচনি ইশতেহারে যোগ হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।আসন সমঝোতায় শেষ সময়েও টানাপোড়েন - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের টানপোড়েনের কারণে ১১ দলের আসন সমঝোতা গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। যদিও গতকালই এ সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল।  সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ১১ দলের মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে আট দলের আসন সমঝোতা হয়ে গেছে। কেবল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। গতকাল রাত ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের শুরা কাউন্সিল এ বিষয়ে বৈঠক করছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আজ বুধবার সকালে শুরা কাউন্সিলের বৈঠক ডেকেছে।শুরুতেই বিতর্কের মুখে পোস্টাল ব্যালট - দৈনিক সমকালের প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোট শুরুর আগেই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে একটি বাসায় কয়েক ব্যক্তির কাছে অনেক ব্যালট পেপার দেখা গেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।  অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক পোস্টাল ব্যালট কয়েকজন মিলে গুনছেন। পোস্টাল ব্যালটের খামে ঠিকানা লেখা রয়েছে বাহরাইনের। দেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা অনেক আগে থেকে চালু থাকলেও প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেছে ইসি। ২০২৬ সালের নির্বাচনের ভাগ্যও কি আমলাদের হাতেই? - দৈনিক বণিক বার্তার প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। এ তিন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একতরফা বিজয়ের নেপথ্যে প্রশাসনের বড় ভূমিকা ছিল—এমন প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মাঠ প্রশাসনে যেসব কর্মকর্তা ও কর্মী কাজ করবেন, তাদের ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা। এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।   তারা বলছেন, নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা দিতে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের ওপর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সহায়তার আওতায় পড়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ পুরো প্রশাসনিক কাঠামো। নির্বাচনের সময়ে এসব কর্মকর্তা কার্যত নির্বাচন কমিশনের অধীনে দায়িত্ব পালন করলেও তাদের পদোন্নতি, বদলি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে নির্বাহী বিভাগ। এখানেই নির্বাচন ব্যবস্থার সবচেয়ে সংবেদনশীল জায়গা।সীমান্তে উত্তেজনা এপারে আতঙ্ক - দৈনিক মানবজমিনের সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে আটক হওয়া আরাকান স্বাধীনতাকামী ৫২ জনকে কক্সবাজার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা করার পর পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে আটক এসব রোহিঙ্গাকে টেকনাফ থানা থেকে কক্সবাজার আদালতে আনা হয়।   এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে গুলিবিদ্ধ শিশু আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে, সীমান্ত দিয়ে চলমান সংঘাতের রেশ এখন বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তে ওপারের গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।এক বছরে হামলায় আহত ৬০১ পুলিশ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ২০২৫ সালে পৃথক হামলার ঘটনায় ৬০১ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সেই হিসাবে প্রতি মাসে আহত হন ৫০ জন। প্রতিদিন একজনের (১.৭) বেশি হামলার শিকার হয়েছেন। মাঠ পর্যায়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি চলমান ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে উচ্ছৃঙ্খল জনতার দলবদ্ধ হামলায় আহত হয়েছেন তারা।  পুলিশের ওপর এসব হামলার ঘটনার তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, বেশির ভাগ পুলিশ সদস্য ‘মব’ সন্ত্রাসের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। অনেক পুলিশ সদস্য শারীরিকভাবে গুরুতর জখম হন। আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থেকে অনেকে মারাও গেছেন।পুরস্কার ঘোষণায়ও উদ্ধার হচ্ছে না লুণ্ঠিত অস্ত্র - দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিক সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরস্কার ঘোষণা ও গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়েও পুলিশের লুট হওয়া বৈধ অস্ত্রের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার হচ্ছে না। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই এসব লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও এখন সহজলভ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছে খুনোখুনি।   সবশেষ গত ডিসেম্বরে ১৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে। এছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৬টি, রাজশাহী বিভাগ থেকে ২৪টি এবং খুলনা বিভাগ থেকে ২১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডিসেম্বরে ৩৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বেপরোয়া পর্যটক সামলাতে হিমশিম অবস্থা কর্তৃপক্ষের - দৈনিক আজকের পত্রিকার খবর এটি।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের জেটিঘাটে জাহাজ থেকে নামতেই মাইকিংয়ের শব্দ কানে ভেসে আসে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মীকে পর্যটকদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘সম্মানিত পর্যটকবৃন্দ, প্রতিবেশ সংকটাপন্ন ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে ভ্রমণ করবেন না, পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় সরকার ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছে।’ দ্বীপের প্রবেশমুখেও ছেঁড়াদিয়া দ্বীপ কেন ভ্রমণ করা যাবে নাএসবের নির্দেশনাসংবলিত সাইনবোর্ড নজরে পড়ে।   কিন্তু এত প্রচার-প্রচারণার পরও দেশের সর্বদক্ষিণের শেষ ভূখণ্ড জীববৈচিত্র্যে ভরপুর প্রতিবেশ সংকটাপন্ন ছেঁড়াদিয়া দ্বীপে ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। দিনের বেলায় যেতে না পারলেও ভোররাতেই প্রশাসনের নজর এড়িয়ে পর্যটকেরা ছেঁড়াদিয়া ভ্রমণে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।