শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বেড়ে গেছে কম্বলের। এতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের কম্বল পল্লীও। চলতি মৌসুমে বেচা-বিক্রি ভালো হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও খুশি। স্থানীয় কম্বল শিল্পের প্রসারের জন্য তারা নিরাপদ আর্থিক লেনদেনের সুবিধা এবং স্থানীয় বাজারে একটি ব্যাংক স্থাপনসহ সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।গত কয়েকদিন ধরে উত্তরবঙ্গের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু চলতে থাকে মানুষের জীবন। তবে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের কম্বল পল্লীও ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কারিগররা রাতদিন বিভিন্ন রকমের কম্বল তৈরিতে সময় দিচ্ছেন। প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার শিমুলদাইড়, ঢেকুরিয়া, কুনকুনিয়া, ছালাভরাসহ কয়েকটি গ্রামে কম্বল তৈরির এসব কারখানা গড়ে উঠেছে। কম দামে ভালো মানের কম্বল পাওয়ায় দেশজুড়ে এখন এ কম্বলের চাহিদা রয়েছে। তাই প্রতি বছরই এই শিল্পের পরিধি বাড়ছে। এতে গ্রামের কয়েক হাজার বেকার যুবক ও শিক্ষার্থীর জন্য কর্মসংস্থান হয়েছে। চলতি মৌসুমে শীত বাড়ায় বেচা-বিক্রিও ভালো হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে কম্বল কিনতে আসছেন। আরও পড়ুন: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের যুক্ত করতে পেপ্যালের সাথে যোগাযোগ চলছে: গভর্নর মেসাস সহীহ্ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. শরিফুল ইসলাম সোহেল বলেন, ধীরে ধীরে কাজিপুরের কম্বল শিল্প বড় হচ্ছে। তবে পুঁজির অভাবে আমরা দ্রুত এগোতে পারছি না। সরকারি স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা থাকলে এই শিল্প আরও বড় করা সম্ভব। আরেক ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, শীতের মৌসুমে এখানে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু নিরাপদ আর্থিক লেনদেনের জন্য কোনো ব্যাংক নেই। তাই স্থানীয় বাজারে একটি ব্যাংক স্থাপনের দাবি ব্যবসায়ী ও পাইকাররা জানিয়েছে। কাজিপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কম্বল শিল্পের প্রসারের জন্য উপজেলা প্রশাসন নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া স্থানীয় বাজারে একটি ব্যাংক স্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। কাজিপুরের পাইকারি কম্বল পল্লিতে সর্বনিম্ন ১৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকার বিভিন্ন ধরনের কম্বল পাওয়া যায়।