ফুটবল বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ। ট্রফির লড়াইয়ে না থাকলে কি আর ট্রফি দেখা থেমে থাকবে! বিশ্বকাপের আগেই পরম আরাধ্য সোনালী ট্রফি দেখার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশিরা। ফিফা ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশে আসছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ২০০৬ সাল থেকে প্রতি বিশ্বকাপের আগে বিশ্বভ্রমণে বের হয়ে ভক্তদের দর্শন দেয় এই সোনালী ট্রফি।২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ট্রফি ট্যুর শুরু হয়েছে গত ৩ জানুয়ারি। এর প্রথম গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। এরপর বেশ কয়েকটি দেশ ঘুরে এবার আসছে বাংলাদেশে। ১৫০ দিনের এই সফর শেষ হবে বিশ্বকাপের সহআয়োজ়ক মেক্সিকোয়। দেশটির বিখ্যাত আজতেকা স্টেডিয়ামে ১২ জুন অনুষ্ঠিত হবে এবারের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচটি।বাংলাদেশে আসা ট্রফিটি কি আসল?হ্যাঁ, বিশ্বভ্রমণে আসল ট্রফিই থাকে। বাংলাদেশে আসল ট্রফিটিই প্রদর্শিত হবে। ২০০২ সালে প্রথমবার বাংলাদেশে এসেছিল বিশ্বকাপের ট্রফি। এরপর ২০১৩ ও ২০২২ সালেও এসেছিল ট্রফিটি।আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ট্রফি এখন বাংলাদেশেবিশ্বকাপ ট্রফির ওজন কত, কী দিয়ে তৈরি?১৯৭৪ এর বিশ্বকাপ থেকে বর্তমান ট্রফিটি বিশ্বকাপজয়ীদের হাতে দেয়া হয়ে থাকে। এটি ১৮ ক্যারেট সোনায় নির্মিত এবং ভিত্তিতে থাকে ম্যালাকাইটের ব্যান্ড। এটির উচ্চতা ৩৬.৮ সেন্টিমিটার (১৪.৫ ইঞ্চি) এবং ওজন ৬.১৭৫ কিলোগ্রাম। ট্রফিটি তৈরি করেছে ইতালির জিডিই বের্তনি কোম্পানি। ট্রফিটির নকশায় দেখানো হয়েছে দুটি মানুষের প্রতিকৃতি পৃথিবীকে ওপরে তুলে ধরে আছে।বিশ্বকাপজয়ীদের কি আসল ট্রফি দিয়ে দেয়া হয়?বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রথমে আসল ট্রফিই দেয়া হয়। সেটি নিয়েই খেলোয়াড়রা উল্লাস-উদযাপন করেন। তবে পরবর্তীতে আসল ট্রফি ফেরত নেয়া হয়। এটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা ওয়ার্ল্ড ফুটবল মিউজিয়ামে রাখা ফিফার তত্ত্বাবধানে থাকে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে সোনার প্রলেপ দেয়া একটি রেপ্লিকা ট্রফি স্থায়ীভাবে দিয়ে দেয়া হয়।ট্যুরে কারা ট্রফি বহন করেন, ট্রফি ধরতে পারেন কারা?বিশেষ বিমানে চড়ে বিশ্বভ্রমণে বের হয়েছে ট্রফি। ট্রফির সঙ্গে থাকেন ফিফার নির্বাচিত বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল কিংবদন্তি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আগে ট্রফি বাংলাদেশ ভ্রমণে এলে সঙ্গে ছিলেন ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ান কারেম্বু। বিশেশ বিমানে চড়ে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি। ছবি এপিএবারের বিশ্বভ্রমণে ট্রফি প্রথম গিয়েছিল সৌদি আরবে। সেখানে ট্রফির সঙ্গে ছিলেন ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালিয়ান কিংবদন্তি আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো। বাংলাদেশে এবার ট্রফির সঙ্গে ফিফার প্রতিনিধি হিসেবে আসছেন ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখার সুযোগ সবার নেই। শুধুমাত্র বিশ্বকাপজয়ী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও ফিফার সভাপতিই আসল বিশ্বকাপ ট্রফি স্পর্শ করতে পারেন।বাংলাদেশে ট্রফি কোথায় প্রদর্শিত হবে?সকাল ১০টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশ্বকাপ ট্রফিকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা। এরপর দুপুর দেড়টার পর থেকে ট্রফি প্রদর্শনীর জন্য রাখা হবে ঢাকার র্যাডিসন ব্লু হোটেলে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ট্রফি থাকবে সেখানে।ট্রফি দেখার সুযোগ পাবেন কারা, ছবি তোলা যাবে?গত ১৫ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ইন্টারঅ্যাকটিভ ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমো ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছিল কোকা-কোলা। সেই ক্যাম্পেইন বিজয়ীরাই শুধু এ ট্রফি দেখতে পারবেন। ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে।আরও পড়ুন: এর আগে কতবার বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে এসেছেট্রফি দেখতে গেলে যেসব নিয়ম মানতে হবেকোকা-কোলার ক্যাম্পেইন বিজয়ীদের অবশ্যই বৈধ টিকিটের সফট কপি, প্রিন্ট কপি বা স্ক্রিনশট দেখাতে হবে। এরপর যাচাই বাছাইয়ের জন্য কোকা-কোলার ক্যাপও সঙ্গে নিতে হবে।দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজক প্রতিষ্ঠান কিছু নিয়মও বেঁধে দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই ট্রফি স্পর্শ করার সুযোগ নেই। ৭/১০ ইঞ্চির চেয়ে বড় ব্যাকপ্যাকও বহন করা যাবে না। ট্রফি প্রদর্শনের ভেন্যুতে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। টিকিট কোনোভাবেই হস্তান্তর, পুনরায় ব্যবহার বা শেয়ার করা যাবে না। ধারালো বা আগ্নেয় অস্ত্র বা নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করা যাবে না। এছাড়া কোনো দল বা দেশের পতাকাও সঙ্গে আনা যাবে না।কোন কোন দেশে যাবে ট্রফি?এবারের ট্যুরে বাংলাদেশসহ ৩০টি দেশের ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে বিশ্বকাপের ট্রফি। বাংলাদেশে শুধু র্যাডিসন ব্লুতেই ট্রফি প্রদর্শিত হবে।গত ৩ জানুয়ারি সৌদি আরবে শুরু হওয়া ১৫০ দিনের ট্যুরে এই ট্রফি বাংলাদেশে আসার আগে গেছে মিশর, তুরস্ক, অস্ট্রিয়া ও ভারতে। বাংলাদেশে আসছে আজ। এরপর যাবে দক্ষিণ কোরিয়ায়।এরপর ট্রফি একে একে জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইভরিকোস্ট, মরক্কো, পর্তুগাল, স্পেন, আলজেরিয়া, ফ্রান্স, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যাবে। কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে ট্রফির সফর শেষ হবে মেক্সিকোয়।