স্টল বরাদ্দে হযবরল, অসঙ্গতি নিয়ে মুখে কুলুপ ইপিবির

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রত্যাশা মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাড়া না পাওয়ায় 'আন্তর্জাতিক' শব্দই যেখানে এবার বাদ দিতে চেয়েছিল সরকার; সেখানে ডজন ডজন বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবারের আসরে। কারও কাছে স্টল এসেছে নিত্যপণ্যের মতো হাত বদল হয়ে; কেউ আবার নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া স্টলের অর্ধেক ভাড়া দিয়েছেন আরেকজনকে।এবারের ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা নানা সমালোচনার মধ্যে বসেছে। ৩ জানুয়ারি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার মেলায় ৬ দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিদেশি স্টল থাকবে এটা স্বাভাবিক। তবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) জানিয়েছে, ১১টি স্টল আর প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ করা হয়েছে বিদেশিদের জন্য। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু ইপিবির কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। তবে কী এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারসাজি? মেলায় সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জিএস-থার্টিন স্টলে রহমান ট্রেডিংয়ের ব্যানারে বিক্রি হচ্ছে দুই আলাদা প্রতিষ্ঠানের পণ্য- ইন্ডিয়ান জুতা ও কাশ্মীরি শাল। ইরানের অংশগ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও মেলায় ইরানি প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে পাকিস্তানি জুতা ও পোশাকের স্টলেও একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পাকিস্তান থেকে আসা একটি স্টলের ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এবার ৮ থেকে ১০টি পাকিস্তানি দোকান মেলায় বসেছে। আরও পড়ুন: বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে তুর্কি পণ্যের দোকান বাংলাদেশের সবজি কাটার সরঞ্জামাদি বিক্রির স্টলের অর্ধেকেও দেখা গেছে ভারতীয় জুতা বিক্রি হচ্ছে। মেলায় একটি দোকানে দুইটি প্রতিষ্ঠান থাকছে, যারা নিজেদের বিদেশি দাবি করছে; এমন স্টলের সংখ্যা কমপক্ষে ২৫টি। স্টল বরাদ্দে হ য ব র ল'র কারণ জানতে জিএস ১৫ নম্বর স্টল ভাগ করে বসা বাংলাদেশের আরবি জামদানি হাউজ আর ভারতীয় কাশ্মীরি শাল বিক্রেতার সঙ্গে কথা বললে দুই প্রতিষ্ঠানই আলাদাভাবে দাবি করে, ইপিবি থেকে বরাদ্দ নিয়েছেন তারা। আবার জিএস-ফোরটিনে হাওলাদার ট্রেডিংয়ের স্টল ভাড়া নিয়ে আরও দুইজন ব্যবহার করছেন; একজন বাংলাদেশি, একজন বিদেশি। স্টলের মালিক জানিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলে সরাসরি বরাদ্দ নেয়া যায় না, তাই অনেকে স্টল ভাড়া নিচ্ছেন। এছাড়া আয়োজক ওয়াশিং প্ল্যান্টের ব্যানারে বিক্রি হচ্ছে দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পণ্য। মেলার স্থায়ী দুই হলে এমন নানা অসঙ্গতির কারণ জানতে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও, ক্যামেরার সামনে কেউ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।