ইরানি তেল আমদানি: চীনের সাশ্রয় ও সরবরাহের কৌশল

বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক চীন, ওপেক উৎপাদক ইরান থেকে তেলের প্রধান ক্রেতা। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার যেকোনো ঝুঁকি প্রথমে বেইজিংকে প্রভাবিত করে।চীন ভেনেজুয়েলা থেকে তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং রাশিয়ার শীর্ষ আমদানিকারক হিসেবেও অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিং বিভিন্ন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি তিনটি দেশ থেকে তেল কিনে আমদানি বিলের কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় করেছে। চীনের জন্য ইরানি তেল কেনার প্রেক্ষাপট কেমন? বিশ্লেষণ সংস্থা কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্যে দেখা গেছে, চীন ইরানের পাঠানো তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য ক্রেতা সীমিত থাকায় চীনের ভূমিকা প্রাধান্য পেয়েছে। গত বছর চীন গড়ে প্রতিদিন ১.৩৮ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে, যা সমুদ্রপথে আমদানি করা মোট ১০.২৭ মিলিয়ন ব্যারেলের প্রায় ১৩.৪ শতাংশ। ইরানি ক্রুডের প্রধান চীনা ক্রেতারা হলো স্বাধীন রিফাইনাররা, যারা ‘চা-পাতা’ নামে পরিচিত এবং মূলত শানডং প্রদেশে অবস্থিত। অনুমোদিত নয় এমন ব্যারেলের উপর বিশেষ ছাড়ের কারণে তারা ইরানি তেলে আকৃষ্ট। চা-পাতা রিফাইনাররা চীনের শোধনাগারের ক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশ, তবে সংকীর্ণ মার্জিনে বা কখনও নেতিবাচক লাভে কাজ করে। সম্প্রতি চীনের অভ্যন্তরীণ পরিশোধিত তেলের চাহিদা কমে যাওয়ায় তাদের ক্রয় সাময়িকভাবে হ্রাস পেয়েছে। আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, নেপথ্যে কী? দামের দিক দিয়ে দেখা গেছে, ডিসেম্বর থেকে চীনে সরবরাহকৃত ইরানি লাইট ক্রুড আইসিই ব্রেন্টের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮-১০ ডলার সস্তা বিক্রি হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এই ছাড় ছিল প্রায় ৬ ডলার। অর্থাৎ, চীনা পরিশোধকরা যদি নিষেধাজ্ঞাবিহীন ওমানের তেলের পরিবর্তে ইরানি লাইট ক্রয় করে, তবে ব্যারেলপ্রতি ৮–১০ ডলার সাশ্রয় করতে পারছে। উপকূলীয় ট্যাঙ্ক ও ভাসমান স্টোরেজের কারণে এই ছাড় আরও বেড়েছে। কেপলার জানায়, ইরানের কাছে রেকর্ড পরিমাণ তেল মজুত রয়েছে, যা প্রায় ৫০ দিনের উৎপাদনের সমান। চীনের ক্রয় সীমিত হওয়ায় তেহরান মার্কিন হামলার ঝুঁকি থেকে সরবরাহ রক্ষা করতে চায়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কেমন? ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে এবং ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারি থেকে ইরানি তেল বাণিজ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানি তেল কেনার অভিযোগে চীনের তিনটি স্বাধীন তেল শোধনাগারের ওপর জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে মাঝারি আকারের বেশ কয়েকটি স্বাধীন রিফাইনার ইরানি তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। চীনের অবস্থান কী? বেইজিং একতরফা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকে বৈধ হিসেবে সমর্থন করে। চীন সাধারণত আমদানি করা ইরানি তেল অন্য দেশ থেকে ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে নিয়ে আসে, যেমন মালয়েশিয়া বা ইন্দোনেশিয়া। তবে চীনা কাস্টমসের তথ্যে দেখা যায়, ২০২২ সালের জুলাই থেকে সরাসরি ইরান থেকে কোনো তেল পাঠানো হয়নি। সূত্র-রয়টার্স