মালয়েশিয়ায় জাল নথি ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসী কর্মীদের বৈধ করার চেষ্টার অভিযোগে মোহাম্মদ জসিম (৪৩) নামে এক বাংলাদেশি কোম্পানি পরিচালককে ৫০ হাজার রিঙ্গিত জরিমানা করা হয়েছে।বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কুয়ালালামপুরের একটি দায়রা আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। বিচারক সুজানা হুসিনের আদালতে জসিম নিজের দোষ স্বীকার করলে আদালত তাকে এই অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়, জরিমানা অনাদায়ে আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আরও পড়ুন:মালয়েশিয়া থেকে ডাকযোগে ভোট দেবেন ৮৪ হাজার বাংলাদেশি আদালত সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ জসিম তার প্রতিষ্ঠান ‘নিসা রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডি’ এর মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকারের আরটিকে ২.০ প্রোগ্রামের আওতায় ১৪ জন বিদেশি কর্মীকে বৈধ করার আবেদন করেছিলেন। এই আবেদনের স্বপক্ষে তিনি একটি ভুয়া লেটার অফ অ্যাওয়ার্ড বা কার্যাদেশ জমা দেন। নথিতে দাবি করা হয়েছিল, জালান তুন রাজাক এলাকার একটি কন্ডোমিনিয়াম প্রকল্পের সংস্কার কাজের জন্য তিনি ওই কার্যাদেশ পেয়েছেন। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, ওরিয়ন ম্যানেজমেন্ট কর্পোরেশন থেকে ইস্যু করা সেই নথিটি ছিল সম্পূর্ণ জাল। বাস্তবে ওই প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির সাথে নিসা রিসোর্সেসের কোনো ব্যবসায়িক লেনদেনও হয়নি। শুনানি চলাকালীন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর নিদজুওয়ান আবদ লতিফ বলেন, আসামি জাল নথি ব্যবহার করে অভিবাসন বিভাগ এবং সিআইডিবি’র মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতার সাথে প্রতারণা করেছেন। অবৈধভাবে বসবাসকারীদের এভাবে বৈধ করার চেষ্টা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারিথ এমিয়ার ফারহান মোর্নি লঘু শাস্তির আবেদন জানিয়ে বলেন, তার মক্কেল তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। সমন পেয়ে গত নভেম্বরে তিনি বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচারের কারণে জসিম বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ বলেও আদালতকে জানানো হয়। ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পুত্রজায়ার অভিবাসন বিভাগে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল। আসামি দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারায় অভিযুক্ত হন। বিচারক আশা প্রকাশ করেন, এই কঠোর জরিমানা আসামিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকতে শিক্ষা দেবে। আরও পড়ুন:মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চলতি বছরেই চূড়ান্ত করতে চায় বাংলাদেশ: হাইকমিশনার উল্লেখ্য, মালয়েশিয়া সরকারের আরটিকে ২.০ প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট শর্তে অবৈধ অভিবাসীদের নিবন্ধিত নিয়োগকর্তার অধীনে বৈধভাবে কাজের সুযোগ দেয়া। জসিমের এই জালিয়াতির কারণে তার আবেদন করা ১৪ জন কর্মীর মধ্যে ১২ জনের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়।