ফিফা ট্রফি ট্যুরের অংশ হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি এখন বাংলাদেশে। আজ (১৪ জানুয়ারি) সকালের দিকে বিশেষ বিমানে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে। দুপুর দেড়টার পর থেকে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে এই ট্রফি। গত ১৫ নভেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ইন্টারঅ্যাকটিভ ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমো ক্যাম্পেইন আয়োজন করেছিল কোকা-কোলা। সেই ক্যাম্পেইন বিজয়ীরা সুযোগ পাচ্ছেন এই ট্রফি দেখার।দেশের আর দশজনের মতো বিশ্বকাপ ট্রফিটা এতদিন টিভি আর ছবিতেই দেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। এবারই প্রথম হলো চাক্ষুষ দর্শন। তাও আবার হাতছোঁয়া দূরত্ব থেকে। বিশ্বকাপের পাঁচ মাসের বেশি বাকি থাকলেও হয়ত ট্রফি দেখে ফুটবলযজ্ঞের রোমাঞ্চের আগাম সুবাসও পেয়েছেন।আজ সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ বিমানে বিশ্বকাপের ট্রফি এসে পৌঁছালে সেটি বরণ করে নেয়ার দলে ছিলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল। বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভার হাতে ছিল পরম আরাধ্য ট্রফিটি।ট্রফি দেখার আনন্দময় অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জামাল বলেন, 'সত্যি বলতে, বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার অভিজ্ঞতা ছিল একদম জোশ! আমি তো ভেবেছিলাম ট্রফিটা ছোট, কিন্তু সামনে থেকে দেখে বুঝলাম এটা বেশ বড়। খোঁজ নিয়ে জানলাম এর ওজন প্রায় চার কেজি, আর পুরোটাই খাঁটি সোনা। অভিজ্ঞতাটা দারুণ ছিল।'আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে কি ভ্রমণ করতে পারবে সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকরাবিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে আসাটা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে বিশ্বাস জামালের। এই ট্রফি দেখে নতুন প্রজন্ম দেশকে একদিন বিশ্বকাপের মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখবে বিশ্বাস তার, ‘আশা করি, আমাদের ফুটবলার যারা কঠোর পরিশ্রম করতে পারে, এটা তাদের জন্য অনুপ্রেরণার হোক। আমি মনে করি, যারা ফুটবলার হতে চায়, তাদের জন্য এই ট্রফি আরও অনুপ্রেরণার হবে।’ব্রাজিল সমর্থক জামালের সঙ্গে কথা হয়েছে ফিফার দূত হয়ে ট্রফির সঙ্গে আসা ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি গিলবার্তো সিলভার। রোনালদো নাজারিওর জাদুকরি ফুটবলে ২০০২ সালে ব্রাজিল তাদের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল। সেই দলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার গিলবার্তোকে সামনাসামনি দেখে রোমাঞ্চিত জামাল। জানিয়েছেন তার জীবনের প্রথম ফেবারিট ফুটবলার ছিলেন রোনালদো।জামাল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি ব্রাজিলকে অনুসরণ করেছি। আমার প্রথম ফেভারিট খেলোয়াড় ছিলেন রোনালদো (নাজারিও)। বিশেষ করে, গিলবার্তোর সামনেও বলেছি ২০০২ সালে ব্রাজিল দলটাও আমাকে খুব অনুপ্রাণিত করেছে, তখন আমার বয়স ছিল ১২ বছর। এই দলটায় ছিল রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনিয়ো এবং গিলবার্তোও ছিল, এটা আমার জন্য ছিল বাড়তি মোটিভেশন।’আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর নিয়ে যা যা জানা দরকারব্রাজিল সমর্থক হলেও জামালের চাওয়া এবার বিশ্বকাপের ট্রফিটা জন্মভূমি ডেনমার্ক জিতুক। তবে ডেনমার্ক না পারলে সেটা ব্রাজিলের ঘরেই যাক।হাসতে হাসতে তিনি বলেন, ‘মনেপ্রাণে চাই আমার জন্মভূমি ডেনমার্ক ট্রফিটা জিতুক। আর ডেনমার্ক যদি না পারে, তবে ট্রফিটা যেন ব্রাজিলের ঘরেই যায়!’বিশ্বকাপ ট্রফি সন্ধা পর্যন্ত র্যাডিসন ব্লু হোটেলে প্রদর্শন করা হবে। এরপর তার গন্তব্য দক্ষিণ কোরিয়া।