আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে মোট ২১৯ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী মাত্র ছয় জন। বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলো এবার রংপুর বিভাগে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি। জাতীয় পার্টিসহ কয়েকটি ছোট দল সীমিত পরিসরে নারী প্রার্থী দিলেও তা মাত্র ছয়টি আসনে সীমাবদ্ধ।রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, এমনকি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও নারীদের ভূমিকা ছিল স্পষ্ট। রাজনীতির নানা চড়াই-উৎরাইয়ে নারীরা পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রার্থী তালিকায় নারী নেতৃত্ব কার্যত অনুপস্থিত। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) একটি করে আসনে নারী প্রার্থী দিয়েছে। এছাড়া বাসদ (মার্কসবাদী) দুটি আসনে নারী প্রার্থী দিয়েছে। তবে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মতো বড় দলগুলো নারী প্রার্থী না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রংপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আমিন বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো মুখে নারীর ক্ষমতায়নের কথা বললেও বাস্তবে তার চর্চা নেই। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সেটাই আবারও প্রমাণ হলো।’সনাক, রংপুরের সভাপতি ড. শাশ্বত ভট্টাচার্য বলেন, ‘নারীরা আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকলেও নির্বাচনের সময় তাদের পিছনে রাখা হয়। এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির দুর্বলতারই প্রতিফলন।’আরও পড়ুন: পানির চেয়ে কম দামে মিলছে আলু, লোকসানে রংপুরের চাষিরা১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বাস্তবে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই বাধ্যবাধকতা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ অধিকার কর্মীদের।রংপুর বিভাগে নারী প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টির নুরুন নাহার বেগম,ঠাকুরগাঁও-২ কিবরিয়া হোসেন,বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) দিনাজপুর-৩,লায়লা তুল রীমা,বাংলাদেশ মুসলিম লীগ - দিনাজপুর-৩ প্রগতি বর্মন তমা,বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)- রংপুর-৪, মোছা. শেফালী বেগম,বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) কুড়িগ্রাম-৪,মোছা: রাহেলা খাতুন,বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) -গাইবান্ধা-৫। অধিকার কর্মীদের মতে, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে শুধু বক্তব্য নয়, দলীয় সিদ্ধান্ত ও মনোনয়নে নারীদের বাস্তব অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।