নারীদের নিয়ে বিএনপির স্পেসিফিক বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, জাতি গঠনে বিএনপি অবশ্যই নারীদের অন্তর্ভুক্তি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। আমাদের যে নির্বাচনী ইশতেহার আসছে, সেখানেই তার প্রতিফলন দেখা যাবে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নারী নেতৃত্ব, লৈঙ্গিক সমতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, অতীতে যদি ধর্ষণের ঘটনাগুলোর সঠিক বিচার হতো তাহলে হয়তো এত ঘটনা এত মামলা হতো না। মানুষের সেই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আইন সবার জন্য সমান—সেটি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনীতি ও দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নারীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করতে হবে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতা পরিবর্তন না হবে, ততক্ষণ তৃণমূল পর্যায়ে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন খুবই কঠিন। বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, নারীদের অনেকটা ‘অলংকার’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অতীতে সংসদে নারী স্পিকার বা দু-তিনজন নারী মন্ত্রী নিয়োগ করা হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নারী হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলে নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন খুব একটা দেখিনি। যা কিছু করা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক মহলকে দেখানোর জন্য। নিজের অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করে বিএনপি এ নেত্রী বলেন, আমার দল বিএনপি কতজন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে বা দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেছে—বিএনপির একজন নারীকর্মী হিসেবে এ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। ‘আমি মনে করি, যতক্ষণ পর্যন্ত দলগুলো ৩০০ আসনে নির্দিষ্ট সংখ্যক নারীকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত না নেবে এবং তাদের আগে থেকে কাজ করার সুযোগসহ আর্থিক, কাঠামোগত ও লজিস্টিক সুবিধা না দেবে, ততক্ষণ অবস্থার প্রকৃত পরিবর্তন হবে না। হঠাৎ করে নির্বাচনের তিন মাস আগে কাউকে মনোনয়ন দিলে, সে পুরুষ হলেও ভালো করতে পারবে না।’ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলের প্রধান হলে নিয়ম করতাম যে—ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা বা কেন্দ্র কোনো পর্যায়ের কমিটিই অনুমোদিত হবে না; যদি না তাতে ৪০ শতাংশ নারী সদস্য থাকে। এমন বাধ্যতামূলক আইন বা অভ্যন্তরীণ নিয়ম থাকলে নারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে (যেমন: উপজেলা, পৌরসভা, ভাইস চেয়ারম্যান বা মেম্বর নির্বাচন) বেশি অংশ নিতে পারবে এবং পর্যায়ক্রমে জাতীয় রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখতে পারবে। নারী কমিশন বিষয়ে মন্তব্য করে শামা ওবায়েদ বলেন, সাম্প্রতিককালে নারী কমিশনের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে এবং যেভাবে তা বাতিল বা অগ্রাহ্য করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো বিষয়ে দ্বিমত বা ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু কমিশনকে এভাবে গুরুত্ব না দিয়ে ছুড়ে ফেলা ঠিক হয়নি। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানসহ কেউই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সমাজেরই অংশ। তারা ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও এসব বিষয়ে কোনো সোচ্চার ভূমিকা রাখেননি’—যোগ করেন তিনি। এমএইচএ/এমকেআর/এএসএম