ব্রাজিলের দখলে যাওয়া বিশ্বকাপের সেই প্রথম ট্রফিটির ভাগ্যে কী ঘটেছিল?

১৯৩০ সালে জুলে রিমে ট্রফি নামে শুরু হয়েছিল প্রতিযোগিতাটি। কালের পরিক্রমাই সেটিই এখন ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ বা বিশ্বকাপ ফুটবল নামে পরিচিতি লাভ করেছে। নামের বিবর্তনের মতোই বৈচিত্রপূর্ণ ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের ইতিহাস। এমনকি শুরুতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে যে ট্রফি দেয়া হতো সেটি দেখতে আজকের ট্রফিটির মতো ছিল না। জুলে রিমে ট্রফি নামে পরিচিত ট্রফির রোমাঞ্চকর গল্পে ঢুঁ মারা যাক।জুলে রিমে ট্রফির নামকরণ করা হয়েছিল ফিফার তৃতীয় সভাপতি জুলে রিমের নামানুসারে, যিনি ১৯২১ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৩ বছর এই পদে ছিলেন। তিনিই এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। সে সময় বিশ্বকাপ ট্রফিটি ছিল স্টের্লিং রূপার ওপর সোনার প্রলেপ দেয়া গ্রিক দেবতা নাইকের প্রতিকৃতি, যার ভিত্তি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিল লাপিস লাজুলি।বিশ্বকাপ শুরুর সময় ফিফা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কোনো দেশ যদি তিনবার বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে তারা ট্রফিটি চিরতরে রেখে দিতে পারবে। ১৯৭০ সালে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ফাইনালে ব্রাজিল ইতালিকে বিধ্বস্ত করার পর সেই শর্ত পূরণ হয় এবং ট্রফিটি ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস কনফেডারেশনের (সিবিডি) হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা বর্তমানে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) নামে পরিচিত। আর ১৯৭৪ সাল থেকে শুরু হয় নতুন ট্রফিতে বিশ্বকাপ, যা এখনও বিদ্যমান।  জুলে রিমে ট্রফিটি ১৯৮৯ সালে সিবিএফের কার্যালয় থেকে চুরি হয়ে যায়। ছবি: ফিফা মিউজিয়ামসেই ট্রফিটি প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছিল রিও ডি জেনেইরোর রুয়া দা আলফান্দেগায় অবস্থিত সিবিএফ কার্যালয়ের তৃতীয় তলায়। কিন্তু ১৯৮৩ সালের ১৯–২০ ডিসেম্বরের রাতে ভবনের নাইটওয়াচম্যানকে একদল চোর পরাস্ত করে করে ট্রফিটি চুরি করে নিয়ে যায়। যার সন্ধান আর কখনোই পাওয়া যায়নি। শুধু থেকে গেছে গল্প, যেখানে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে অপরাধ, নিষ্ঠুরতা, লজ্জা এবং রহস্যের একাধিক স্তর।ভি-ব্রাজিলডটকমের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা নাকি একটি বারে বসে কাশাসা (ব্রাজিলীয় মদ) পান করতে করতেই এই পরিকল্পনা করেছিল। এটি কোনো আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সূক্ষ্মভাবে সাজানো ষড়যন্ত্র নয়, বরং এক ধরনের সুযোগসন্ধানী ও প্রায় হাস্যকর পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হয়।আরও পড়ুন: ব্রাজিল ফ্যান জামালের চাওয়া, ডেনমার্ক জিতুক বিশ্বকাপনাইটওয়াচম্যানকে বেঁধে রেখে চোরেরা বুলেটপ্রুফ কাচে মোড়া কাঠের ডিসপ্লে বাক্সের ফ্রেম ভেঙে ট্রফিটি নিয়ে পালিয়ে যায়। ভবনটিতে একটি রেপ্লিকা ট্রফিও ছিল, যা আলাদা করে নিরাপদ একটি সিন্দুকে রাখা হয়েছিল (সতর্কতা হিসেবে), কিন্তু চোরেরা সেটি স্পর্শ না করে আসল ট্রফিটিই নিয়ে যায়।এই চুরির ঘটনা অপরাধীদের ধরতে এবং ট্রফি উদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে অভিযান চালিয়েছিল ব্রাজিল। শহরের ভেতর ও আশপাশে বেশ কয়েকটি গোপন ধাতু গলানোর কারখানা থাকায় আশঙ্কা তৈরি হয় যে ট্রফিটি গলিয়ে ফেলা হতে পারে। জুলে রিমে ট্রফির রেপ্লিকায় চুমু খাচ্ছেন ফুটবল সম্রাট পেলে। ছবি: সংগৃহীতসেই সময় ট্রফিটির স্বর্ণমূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ হাজার পাউন্ড। রিও ডি জেনেইরো স্টেট ব্যাংক ট্রফিটি নিরাপদে ফেরত আনার জন্য বড় অঙ্কের পুরস্কারও ঘোষণা করে।ব্রিটিশ লেখক মার্টিন অ্যাথারটনের তার দ্য থেফট অব দ্য জুলে রিমে ট্রফি বই থেকে জানা যায়, সিবিএফ সভাপতি জুলিতে কৌতিনিও সারা দেশের মানুষের কাছে ট্রফি উদ্ধারে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, 'এই কাপের আধ্যাত্মিক মূল্য তার বস্তুগত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি।' তিনি আরও বলেন, চোরদের মধ্যে 'দেশপ্রেমের কোনো অনুভূতি নেই।' পুরো জাতির মাথা লজ্জায় অবনত হয়েছিল এই ঘটনায়।পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে এবং এটি সিবিএফের ‘ভেতরের কাজ’ হতে পারে বলেও সন্দেহ করা হয়। তদন্তে সেদিকেও নজর দেয়া হয়েছিল। নাইটওয়াচম্যানের সাক্ষ্যকে অসংলগ্ন বলে সমালোচনা করা হয়। চুরির পরদিনই সিবিএফ কার্যালয়ের সাবেক দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।তবে, শেষ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি এবং ট্রফিটিও আর কখনো পাওয়া যায়নি। ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়, এটি গলিয়ে স্বর্ণ হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনদের একজন—আন্তোনিও কার্লোস আরানহাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়। তার শরীরে সাতটি গুলির চিহ্ন ছিল।আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে কি ভ্রমণ করতে পারবে সেনেগাল ও আইভরি কোস্টের সমর্থকরাএভাবেই সোনায় মোড়ানো ৩০ সেন্টিমিটার উঁচু গ্রিক বিজয়দেবী নাইকের সেই গৌরবময় মূর্তি, যা ১৯২৯ সালে প্যারিসের ভাস্কর আবেল লাফলের তৈরি করেছিলেন–তা চিরতরে হারিয়ে যায়।সত্যিই কি গেছে? এখানেই আসে সেই রহস্যের মোড়। কারণ রিওর সেই ডিসেম্বরের রাতই প্রথম নয়, যখন জুলে রিমে ট্রফির নিরাপত্তাব্যূহ ভাঙা হয়েছিল।লোরেঞ্জো গারজেলা, ফিলিপ্পো ম্যাচেলোনি ও সিজার মেনেগেত্তির নির্মিত ইতালীয় প্রামাণ্যচিত্র দ্য রিমে ট্রফি'র তথ্য অনুযায়ী, ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো গুরুতর হুমকির মুখে পড়ে নাৎসিদের হাতে। আর তারা সেটি চুরি করার খুব কাছাকাছিও পৌঁছে গিয়েছিল।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জুলে রিমে ট্রফিটি ছিল ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইতালির দখলে এবং সেটি রোমের একটি ব্যাংকে রাখা ছিল। ট্রফিটির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিলে ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ওত্তোরিনো বারাসি গোপনে ট্রফিটি ব্যাংক থেকে বের করে রোমে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান। তবে নাৎসিরা সেই গন্ধ ধরে বারাসির বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কিন্তু তারা যথেষ্ট সতর্ক ছিল না। বারাসির বিছানার নিচে রাখা পুরোনো একটি জুতার বাক্স তাদের চোখ এড়িয়ে যায়, আর সেই বাক্সের ভেতরেই লুকানো ছিল ট্রফিটি। পিকেলস নামের এই কুকুরটিই দক্ষিণ লন্ডনের এক বাগান থেকে বিশ্বকাপ ট্রফিটি উদ্ধার করেছিল। ছবি: সংগৃহীত১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির অলৌকিক জয়ের পর ট্রফিটি ফ্রাঙ্কফুর্টে রাখা হয়। ফটোসাংবাদিক জো কয়েল দাবি করেন, কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে তিনি দেখেছেন যে ১৯৫৮ সালের সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য নেওয়া ট্রফিটি ১৯৫৪ সালের সংস্করণের তুলনায় প্রায় ৫ সেন্টিমিটার উঁচু ছিল এবং এর বেসেও কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। তবে জার্মানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় ট্রফিটি পরিবর্তন বা অদলবদল করা হয়েছিল–এমন কোনো প্রমাণ কখনো নিশ্চিত করা যায়নি।জুলে রিমে ট্রফির পরবর্তী ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপ শুরুর তিন মাস আগে ট্রফিটি ওয়েস্টমিনস্টার সেন্ট্রাল হলে জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছিল। কল্পনা করুন—রোববারের শান্ত দুপুর, দুইতলা ভবনটি পাহারা দিচ্ছেন চারজন নিরাপত্তারক্ষী। সকাল ১১টায় নিয়মিত পরীক্ষায় সব ঠিক ছিল। কিন্তু  দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা গেল—ট্রফি রাখার কাচের বাক্স ভাঙা, ভবনের পেছনের দরজা জোর করে খোলা, আর ট্রফিটি উধাও। কেউই ট্রফি চুরির দৃশ্য দেখেনি!এফএ চেয়ারম্যান জো মিয়ার্সের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। যদিও একজনকে 'চুরির পর জড়িত থাকা' এবং 'ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করার' অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, তবে ওয়েস্টমিনস্টারের ওই চুরির সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর ১৯৮৩ সালে রিওতে ঘটা ঘটনার মতোই, চোরদের পরিচয় কখনোই জানা যায়নি। আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর নিয়ে যা যা জানা দরকারমজার ব্যাপার হলো, ইংল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যখন ফুটবল দুনিয়াজুড়ে সমালোচনা চলছে, তখন সিবিডির আব্রাইন তেবেল অহংকারের সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছিলেন, 'ব্রাজিলে এমন কিছু কখনোই ঘটত না। ব্রাজিলের চোরেরাও ফুটবল ভালোবাসে এবং এমন পবিত্র জিনিসে হাত দিত না।' তার সেই অহংকার ২৩ বছর পর ভেঙে চুরমার হয়েছিল।তবে, ব্রাজিলের ঘটনার বিপরীতে, ১৯৬৬ সালে ট্রফিটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। সেটিই এক কুকুরের অবিশ্বাস্য বুদ্ধিমত্তার কারণে। চুরির সাত দিন পর ‘পিকলস’ নামের একটি কুকুর দক্ষিণ লন্ডনের আপার নরউড এলাকায় একটি বাড়ির সামনের বাগানে খবরের কাগজে মোড়ানো অবস্থায় ট্রফিটি খুঁজে পায়। আজও কেউ জানে না, ট্রফিটি সেখানে কীভাবে পৌঁছেছিল।ফাইনালের আগেই ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন একটি প্রতিরূপ ট্রফি তৈরি করায়। ফাইনালের দিন ওয়েম্বলিতে দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা পরে জানান, ম্যাচ শেষের পর উচ্ছ্বসিত নবি স্টাইলসের সঙ্গে তিনি আসল ট্রফিটি বদলে প্রতিরূপটি তুলে দেন। সেই রাতেই কেনসিংটনের রয়্যাল গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে এবং পরবর্তী প্রচারণামূলক আয়োজনে এই প্রতিরূপ ট্রফিটিই ব্যবহার করা হয়।পরবর্তীতে গুঞ্জন ছড়ায় যে, ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ড যে ট্রফিটি ফেরত দিয়েছিল, সেটি আসলে প্রতিরূপই ছিল, সম্ভবত ভুলবশত বদল হয়ে গিয়েছিল, কারণ প্রতিরূপটি দেখতে ছিল প্রায় আসলের মতোই।যে ট্রফিটি ইংল্যান্ডে থেকে গিয়েছিল, সেটি ১৯৯৭ সালে নিলামে তোলা হয় এবং ফিফা অবিশ্বাস্য ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ পাউন্ডে সেটি কিনে নেয়। তাদের আশা ছিল হয়তো গুজব সত্যি, আর সেটিই আসল ট্রফি। ফিফা সেটি একজন বিশেষজ্ঞ জহুরি দিয়ে পরীক্ষা করায়। ফলাফল?–সেটি ছিল রেপ্লিকা।এর মানে দাঁড়ায়, আসল ট্রফিটি মেক্সিকোতেই গিয়েছিল এবং পরে বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দল সেটিকে নিজেদের দেশে নিয়ে যায়।এখন শুধু একটি রহস্যই রয়ে গেছে: ১৯৮৩ সালে রুয়া দা আলফান্দেগায় সেই চুরির ঘটনার পর ট্রফিটির ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছিল? সত্যিই কি এটি কোনো ব্রাজিলীয় ধাতু গলানোর কারখানায় নিয়ে গিয়ে সোনার ইট বানিয়ে ফেলা হয়েছিল? ১৯৭৪ বিশ্বকাপ থেকে এই ট্রফিটিই চলছে। উদযাপনের পর যেটি ফিরে যায় জুরিখে ফিফার জাদুঘরে, আর চ্যাম্পিয়নদের দেয়া হয় ট্রফির রেপ্লিকা। ছবি: এপিফুটবল লেখক সাইমন কুপার এই তত্ত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, আসল জুলে রিমে ট্রফিটি আদৌ খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি ছিল না। এটি ছিল রুপার তৈরি, যার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল।তাই যদি ট্রফিটি চুল্লিতে না যায়, তবে সেটি যেকোনো জায়গায় থাকতে পারে। সেটি হয়ত রিওর শহরতলিতে কোথাও লুকিয়ে রাখা আছে, হয়ত এমন কোনো সংগ্রাহকের অন্ধকার বেজমেন্টে আজও গুঁজে রাখা আছে, কিংবা কারও বিছানার নিচে জুতার বাক্সে লুকানো।অনুসন্ধান চলছে, রহস্যও। আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ট্রফি এখন বাংলাদেশেরিও ডি জেনেইরো এখন পর্যন্ত তিনটি বড় বিশ্বকাপ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে, যেগুলো ব্রাজিলকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। প্রথমটি ১৯৫০ বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ণায়ক ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে স্বাগতিক ব্রাজিলের অবিশ্বাস্য ২–১ গোলের হার—যাকে অনেকেই ব্রাজিলীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি বলে মনে করেন।  দ্বিতীয়টি ১৯৮৩ সালে আসল ট্রফি চুরির ঘটনাআর শেষটি?–২০১৪ সালে মারাকানায় বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা, যার প্রভাব আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেলেসাওরা। পাঁচটি বিশ্বকাপ জেতার গৌরবের বিপরীতে ব্রাজিলের ফুটবলে এ তিন কলঙ্কও অমোছনীয়।