যশোরে গণভোট সম্পর্কে ধারণা দিতে ‘মক ভোটিং’ শুরু

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যশোরে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘মক ভোটিং’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জেলার মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যাপীঠে এই মক ভোটিংয়ের আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান নিজে ভোট দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নারী ও পুরুষ ভোটারদের পৃথক দুটি লাইনে দাঁড়িয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। আয়োজকরা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে ‘গণভোট’ বিষয়টি পরিচিত করতেই এই ধরণের আয়োজন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারের পাশাপাশি গণভোটের ব্যালট পেপারের নমুনা নিয়ে এ ভোটের আয়োজন করা হয়। মূল নির্বাচনের মতোই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্ট ও ভোটার সবই ছিল এই মক ভোটিংয়ে। নিয়ম অনুযায়ী ভোটাররা লাইন ধরে ভোট দিয়েছেন। মক ভোটের এই মহড়া চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে। ভোট দিতে আসা রাজগঞ্জ এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আশা করছি মানুষের কাছে ভালো বার্তা যাবে। সামনে যেই নির্বাচন হবে, তা সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু হবে বলে আশা করি। জাতীয় নির্বাচনের ভোট ও গণভোট দুটি নিয়ে বুঝতে আমার কোনো সমস্যা হয়নি।’ আরও পড়ুন: যশোরে আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেলসহ ১০ মামলার আসামি গোল্ডেন সাব্বির আটক ঝাঁপা গ্রামের নজরুল ইসলাম নামে আরেক ভোটার বলেন, ‘গণভোট সম্পর্কে আগে জানা ছিল না। আজ টিক চিহ্ন দিয়ে গণভোট দিলাম।’ সুমন নামে এক যুবক বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে নতুনভাবে ভোটের আয়োজন হতে যাচ্ছে। যারা সংস্কার চান, তারা হ্যাঁ চিহ্নে টিক দেবেন; আর যারা সংস্কার চান না, তারা না চিহ্নে টিক দেবেন। ভোটের আগে এই ধরণের মক ভোটিংয়ে ধারণা পেলাম। এই আয়োজন প্রতিটি কেন্দ্রে হলে ভালো হয়।’ এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ‘এবার প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হচ্ছে। গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকায় নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গণভোটের প্রচারণা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসেম্বলিতে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের ধারণা দিচ্ছেন। এছাড়া জেলার প্রায় ১২ হাজার মসজিদে জুমার খুতবার আগে গণভোট সম্পর্কে ইমামরা ধারণা দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন হাট-বাজারেও গণভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’