গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান বলেছেন, বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হলো গত ৫৪ বছরের পরিবারতান্ত্রিক রাজনৈতিক সিলসিলা। তিনি বলেন, এই সিলসিলায় যোগ্যতার চেয়ে বংশীয় পরিচয় (যেমন বাবার পর ছেলে বা মেয়ে) বেশি প্রাধান্য পায়। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নারী নেতৃত্ব, লৈঙ্গিক সমতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক পলিসি ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন। ফারুক হাসান বলেন, নারীদের মানবজাতির একটা অংশ হিসেবে মাইনরিটি হিসেবে তুলে ধরা বা সম্বোধন করা অত্যন্ত বিব্রতকর। আমাদের প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত মানুষ। এরপর লৈঙ্গিক বা ধর্মীয় পরিচয় থাকতে পারে। নিজেকে মাইনরিটি হিসেবে মেনে নেওয়া মানেই হলো নিজেকে ছোট করা এবং ইনসিকিউর ফিল করা। তিনি বলেন, পশ্চিমা রাজনৈতিক কালচারে যোগ্যতার ভিত্তিতে উঠে আসার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে পরিস্থিতি ভিন্ন। বিএনপির পাপিয়া আপা ছাত্র রাজনীতি করে আজ এই পর্যন্ত এসেছেন। তিনি যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়েছেন। যদিও নারীরা ছাত্র রাজনীতি ও বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয়, কিন্তু পরিকল্পিতভাবে গত ৫৪ বছর ধরে নারীদের মূল নেতৃত্বে তুলে আনার ‘পাইপলাইন’ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অনেকে ধর্মীয় কারণে নারীদের অধিকার সংকুচিত হওয়ার কথা বললেও ফারুক হাসান এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলাম ধর্ম বা অন্য কোনো ধর্মে নারীদের অধিকার খাটো করার কোনো বিধান নেই। উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লেখ করেন যে, আম্মাজান খাদিজা (রা.) সে সময়ের আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন এবং আম্মাজান আয়েশা (রা.) যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাই ধর্মকে ব্যবহার করে যারা নারীদের পিছিয়ে রাখার নারেটিভ তৈরি করে, সেটি ধর্মের অপব্যাখ্যা। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোর সমালোচনা করে ফারুক বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব প্রকট। দলের প্রধান যা বলেন, বাকিরা তা বিনাবাক্যে মেনে নেয়। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো মত দিলে দল থেকে বের করে দেওয়া বা কোণঠাসা করে রাখার ভয় থাকে। তিনি নিজের দল (গণঅধিকার পরিষদ) সহ সব দলেই এই গণতান্ত্রিক চর্চার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন। এই পরিবেশের কারণেই নারী নেতৃত্ব বা সামগ্রিকভাবে নতুন নেতৃত্ব বিকাশিত হতে পারছে না বলেও তিনি মনে করেন। এমএইচএ/বিএ