পরিবারের সুখের জন্য ৮ বছর আগে কুয়েতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফরিদপুরের যুবক জামাল মাতুব্বর। তিন বছর আগে ছুটিতে একবার দেশে এসেছিলেন। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আবারও ছুটিতে দেশে আসার কথা ছিল তার। কিন্তু জীবিত নয়, দেশে ফিরল তার আগুনে পোড়া মরদেহ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় তার মরদেহ। সেখান থেকে রাতেই মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত জামাল মাতুব্বর ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের রাহুতপাড়া গ্রামের মৃত হামেদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। জানা গেছে, জামাল কুয়েতের আহমাদি জেলার ‘অপেরা ফার্ম হাউজ’-এ চাকরি করতেন। এই ফার্ম হাউজেই গত ১ জানুয়ারি রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। আরও পড়ুন: চাকরির প্রলোভনে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ জামালের স্ত্রী কাকলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। টাকার জন্যই তাকে হত্যা করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আমাদের ধারণা, যারা হত্যা করেছে তারা আমার স্বামীর কাছের মানুষ ছিল। আমি কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে এর সঠিক বিচার চাই। তারা যেন সুষ্ঠু তদন্ত করে আমাদের ন্যায়বিচার পাইয়ে দেন।’ এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী তালেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা ও কুয়েত প্রবাসী মুন্নু ফকির জানান, ‘জামাল যেখানে থাকত, সেখান থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে আমি থাকি। গত ডিসেম্বরে আমি ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। ১ জানুয়ারি ফোনে জানতে পারি জামাল আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। ওই দেশের ফায়ার সার্ভিস এসে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে কুয়েত পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে মঙ্গলবার জামালের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়।’