বাংলাদেশ-নেপাল বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত তিন মাসের মধ্যে

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) আগামী তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-নেপাল অষ্টম বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার শুরু হয়ে এ বৈঠক বুধবার (১৪ জানুয়ারি) শেষ হয়। পিটিএ ছাড়াও বৈঠকে বিদ্যুৎ আমদানি বৃদ্ধি, ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বাণিজ্য সহজীকরণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং নেপালের পক্ষে শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব রাম প্রসাদ ঘিমির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পিটিএ চূড়ান্ত হলে দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট পণ্যে শুল্কছাড় বা কম শুল্ক সুবিধা মিলবে, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে সহায়ক হবে। দীর্ঘদিন ধরে পিটিএ নিয়ে আলোচনা চললেও নানা কারণে চুক্তিটি চূড়ান্ত হচ্ছিল না। এবারের বৈঠকে সে অচলাবস্থা কাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হলো। বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বিদ্যুৎ বাণিজ্য। বর্তমানে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় শুরু হয়েছে। এই সরবরাহ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে নেপাল থেকে অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তাব তোলে বাংলাদেশ। নেপালের জলবিদ্যুৎ খাতের বিপুল সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদ্যুৎ আমদানির পথ খোলা রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ট্রানজিট সুবিধা ছিল বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। নেপাল বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়াতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় রেলপথের পাশাপাশি নৌপথে ট্রানজিট সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-নেপাল-ভারত ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য নিরাপত্তা ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ জোরদারে স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যে কারিগরি বাধা (টিবিটি) সংক্রান্ত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের যাতায়াত সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো, পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করা এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল। বৈঠকে আলোচিত অন্যান্য বিষয় দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শেষে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র। এনএইচ/এএমএ