দীর্ঘ সাড়ে তিন বছরের আন্দোলন ও আলোচনার পর অবশেষে মোংলা বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের শ্রম মজুরি ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসঙ্গে আবাসন থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের সময়কে কর্মঘণ্টার অন্তর্ভুক্ত করাসহ ১৮ দফা দাবির সবকটি মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহীন রহমানের সভাপতিত্বে মালিক পক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান দাবি ছিল শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি। এ প্রেক্ষিতে মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের বিদ্যমান প্রথানুসারে স্বাভাবিক এক শিফট (৮ ঘণ্টা) কর্মঘণ্টার মজুরির উপর ২৬ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।এছাড়াও, কর্মরত শ্রমিকদের বাসস্থান থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসরত শ্রমিকদের কর্মস্থলে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কিনারায় লঞ্চঘাট থেকে ডিউটি পালনের জন্য নির্ধারিত সময়ের পূর্বে যাত্রা শুরু এবং ডিউটি শেষে নিরাপদে বাসস্থানে ফেরত পৌঁছানো পর্যন্ত সময়কে কর্মঘণ্টার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এ বৈঠকে। একই সঙ্গে ডিউটি শেষে মালিক পক্ষ কর্তৃক শ্রমিকদের দ্রুত ও নিরাপদে কিনারায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারণ করা হয়।আরও পড়ুন: ৫ হাজার টন চাল নিয়ে মোংলা বন্দরে ভিয়েতনামের জাহাজ ‘এমভি হং টার্ন’মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক মো. মাকরুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিনের অনিষ্পন্ন দাবিসমূহ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসবে। মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে একটি সফল সমঝোতা হয়েছে।মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ জাহিদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী মালিকদের পক্ষে এই চুক্তিতে সই করেন। অন্যদিকে শ্রমিক প্রতিনিধি মো. আলাউদ্দিন ও আলী হোসেন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, '১৮টি দাবির প্রতিটিই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করেছে। আমরা বন্দরের উন্নয়নে আরও নিবেদিত হয়ে কাজ করব।'