‘পোস্টাল ব্যালটে ভূতের আছর’, ‘১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। আসন নিয়ে ১১ দলীয় জোটে অসন্তোষ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক নাটকীয়তার পরও শেষ পর্যন্ত হয়নি জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের আসন বণ্টন ঘোষণা। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জোটের আসন বণ্টনে ডাকা হয়েছিল সংবাদ সম্মেলন। কিন্তু আসন বণ্টন সমঝোতা নিয়ে জটিলতায় সেই সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করিম উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়ে দিলে দুপুর ২টার দিকে এক জরুরি ঘোষণায় স্থগিত করা হয় সেই সংবাদ সম্মেলন।   এমন পরিস্থিতির মধ্যে গতকাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজ নিজ কার্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দলের সর্বোচ্চ ফোরামের বৈঠক করে। এরপর আলাদা আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলগুলো ‘একক ভোট বাক্স’ নীতিতে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতার কথা জানালেও প্রত্যাশা অনুযায়ী আসন না পাওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মতবিরোধ চরমে ওঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের। তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষায় প্রাধান্য - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে দলের ঘোষিত ৩১ দফা, জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রস্তুত করছে বিএনপি। ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান, প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়ন ও ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।  দলীয় সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এই ইশতেহারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন বক্তব্যের মূল দিকনির্দেশনাও প্রতিফলিত হবে। এর মধ্যে তাঁর ঘোষিত ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি গড়ে তোলার পরিকল্পনা এবং ক্ষমতায় গেলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকারও ইশতেহারে স্থান পাচ্ছে।পোস্টাল ব্যালটে ভূতের আছর - দৈনিক মানবজমিনের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোট দিতে ১৫ লাখের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। প্রবাসী এবং দেশে থাকা সরকারি কর্মচারী ও ভোটের কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং কারাবন্দিরা পোস্টাল ভোট দেবেন। এই ভোট নিয়ে এরই মধ্যে জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিও দেখে অনেকে বলছেন, এই ভোটে ভূতের আছর পড়েছে।   প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটের আয়োজন শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।  পোস্টাল ব্যালটে নিজেদের প্রতীকের অবমূল্যায়ন হয়েছে দাবি করে নতুন করে ব্যালট ছাপানোর কথা বলছে বিএনপি। এ ছাড়া একসঙ্গে অনেক পোস্টাল ব্যালট নিয়ে প্রবাসীদের ভিডিও নিয়ে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।রাজনৈতিক অস্থিরতায় গতিহারা অর্থনীতি - দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা গতি হারিয়েছে বা শ্লথ হয়ে পড়েছে। যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম স্থিতিশীল রয়েছে। এ কারণে চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হয়েছে।  আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতা নিয়ে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাস পাবে। পাশাপাশি দেশের শিল্প খাত চাঙা হবে। এসব কারণে আগের পূর্বাভাসের চেয়ে দ্রুততর গতিতে সরকারি ব্যয় এবং বিনিয়োগ বাড়বে।বাংলাদেশের প্রধান ঝুঁকি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড - দৈনিক সমকালের প্রধান সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ)  বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদনে চলতি বছরে 'অপরাধ এবং অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড'কে বাংলাদেশের প্রধানতম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগের বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থানের মতো বিষয় বাংলাদেশের জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে স্থান পেত। এবার নির্বাচনের বছর প্রথমবারের মতো ‘অপরাধ' সেই জায়গা নিল ।  ডব্লিউইএফ জেনেভা থেকে 'গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট-২০২৬' প্রকাশ করেছে। এতে বিশ্বের জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয় প্রধান ঝুঁকি। গত কয়েক বছরে ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বা সংঘাত বাংলাদেশের প্রথম পাঁচ ঝুঁকির তালিকায় ছিল না। এবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অন্য তিনটি ঝুঁকি হলো- মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক নিম্নগতি ও ঋণ। প্রতিবেদনে ঝুঁকির কারণ নিয়ে দেশভিত্তিক আলাদা ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।