যশোরে লক্ষ্যমাত্রার থেকেও বেশি জমিতে চলতি বছর সরিষা চাষ করা হয়েছে। ফেলে রাখা জমিতে এই ফসল আবাদ করে চাষিরা বাম্পার ফলনের আশায় রয়েছেন। এতে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক উন্নতিও ঘটবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।যশোরের বিভিন্ন এলাকার দিগন্তজোড়া মাঠ এখন সরিষার হলুদ ফুলে রঙিন। চোখ যে দিকে যায়, ফসলের মাঠ যেন হলুদ সাজে সেজেছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় এমন সুন্দর দৃশ্য তৈরি হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের উৎসাহে চলতি বছর জেলার ৮ উপজেলার ২৭ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান উঠার পর ও বোরো ধানের আগে তিন মাসের মধ্যে বাড়তি ফসল হিসেবে বারি ৯ ও ১৪ সরিষার চাষ করছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাঠে মাঠে সরিষা শোভা পাচ্ছে। আরও পড়ুন: স্বল্প খরচে অধিক লাভ, সরিষা আবাদে ঝুঁকছেন কুড়িগ্রামের কৃষকরা আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় ফেলে রাখা জমিতে আবাদ করা সরিষায় বাম্পার ফলনের আশা রয়েছে। যশোর সদর উপজেলার হাশিমপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, আগে ধান কাটার পর অনেক জমি পড়ে থাকত। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার সেই জমিতে সরিষা লাগিয়েছি। গাছ খুব ভালো হয়েছে, প্রচুর ফুল এসেছে। আশা করছি গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি ফলন পাব। খরচও কম হওয়ায় লাভ ভালো হবে। আরেক কৃষক মো. মোবারক হোসেন জানান, সরিষা চাষে সময় কম লাগে এবং সার-সেচও কম লাগে। আমন ও বোরো ধানের মাঝে এটি আমাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ। বাজারদর ভালো থাকলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করব। এনায়েতপুর গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, আমি ছয় বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। ধান কাটার পর ফেলে থাকা জমি কাজে লাগাতে করেছি। চলতি বছর আনুমানিক ২৫ মণ সরিষা উৎপন্ন হবে, যা বিক্রি করে ৭৫ হাজার টাকা আয় হবে। আমাদের মাঠে দেড়শ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সরিষা আবাদ বেড়েছে। গত বছর আবাদ ছিল ১৫০ হেক্টর, এবার কৃষকদের উৎসাহ ও প্রণোদনার মাধ্যমে ১৮০ হেক্টর আবাদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন জাত চাষের ফলে উৎপাদনও বেশি হবে, যা তেলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করবে। আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জের মাঠগুলো এখন হলুদের গালিচা, চোখ জুড়ানো সরিষায় বুক বাঁধছে চাষিরা তিনি আরও বলেন, সরিষা চাষাবাদ দুই ফসলের মধ্যবর্তী সময়ে হয়। রোপা আমনের পরে এটি আগাম ফসল হিসেবে চাষ করা হয়, তারপর বোরো ধানের চাষ শুরু করা যায়। এতে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। বিঘা প্রতি খরচ মাত্র ৩-৫ হাজার টাকা, বিক্রি করে ১২ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) সমরেণ বিশ্বাস জানান, ভোজ্যতেলের সংকট মেটাতে এটি বড় পদক্ষেপ। আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছি। বাম্পার ফলন হলে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকের অর্থনৈতিক অবস্থাও উন্নত হবে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় চলতি বছর গড়ে ৩৩ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন সম্ভব, যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।