হারানোর পথে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়, রক্ষায় কৃষিবিদদের পরামর্শ

শীত মৌসুমে সাতক্ষীরায় খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন গাছিরা। তবে গাছির অভাবে খেজুরের রস সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে। হারাতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস ও খেজুরের গুড় ও পাটালি। তবে এ শিল্প রক্ষায় খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন কৃষিবিদরা।জানা যায়, আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীত মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে খেজুর রস সংগ্রহ, আর রস থেকে নানা ধরনের রসের পিঠা পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। তবে এবার খেজুরগাছ কাটা গাছির অভাবে রস সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে।সংশ্লিষ্টরা জানান, সাতক্ষীরায় লক্ষাধিক খেজুর গাছ রয়েছে; যা থেকে দুই হাজার মেট্রিক টন গুড় পাওয়া সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে খেজুরের রস সংগ্রহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। যে কারণে খেজুরের গুড়ের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। বর্তমানে খেজুরের রস ২০০ টাকা ভাঁড়। আর খেজুরের গুড় ৫০০ টাকা ও পাটালি ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।সাতক্ষীরার খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া ও গাছ কাটা গাছির অভাবে রসের পিঠা পায়েস শহরাঞ্চল থেকে হারাতে বসেছে। বর্তমানে খেজুর গাছ কাটা কষ্টের কাজ হিসেবে পারিশ্রমিক পাওয়া যায় না। তারপরও কেউ কেউ বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে বলে জানালেন গাছিরা।আরও পড়ুন: আসছে খেজুরের রস-গুড় সংগ্রহের মৌসুম, ভাঁড় তৈরিতে ব্যস্ত দেহাটি গ্রামের মৃৎশিল্পীরাআগের মত মায়ের হাতের পিঠা পায়েস এখন আর পাওয়া যায় না। খেজুর গাছ কাটার লোকই পাওয়া যাচ্ছে না। পাওয়া গেলেও খরচ বেশি। ছোটবেলার সেই খেজুরের গুড় এখন খেতে না পারার আক্ষেপ গ্রামবাসীর।এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এ শিল্পকে বাঁচাতে যুবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে জানান, কর্মসংস্থান বাড়বে, বাড়বে খেজুরের রস সংগ্রহ। তাহলে গুড়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।