মাঘ মাসের প্রথম দিন ভোর হতেই শরীয়তপুরের মনোহর বাজার এলাকায় বসে ঐতিহ্যবাহী জোড়া মাছের মেলা। কনকনে শীত উপেক্ষা করে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই খোলা মাঠে ডালাভর্তি ইলিশ সাজিয়ে বসেন মাছ বিক্রেতারা। পাশাপাশি সারি সারি সবজি, খাবার ও খেলনার দোকানও সাজানো থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মেলার প্রাঙ্গণ। এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ হলো জোড়া ইলিশ মাছ ও বেগুন।সরজমিনে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি ২০২৬, পহেলা মাঘ ১৪৩২) মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মানুষই ঘরে ফিরছেন একজোড়া মাছ ও বেগুন নিয়ে-যা বহু দিনের চলে আসা রীতি। শরীয়তপুরের মনোহর বাজারে কালীমন্দির ও গরুর মাঠ এলাকায় প্রতি বছর মাঘের প্রথম দিনে এই মেলা বসে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অন্তত ২০০ বছর ধরে এটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুরুর দিকে কেবল ইলিশ বিক্রি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রুই, কাতল, বোয়াল, আইড়সহ নানা প্রজাতির মাছ যুক্ত হয়েছে। পরে যুক্ত হয়েছে খাবার ও খেলনার দোকানও। মেলাকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে থাকে বিশেষ আগ্রহ। সারা বছর ধরে অনেকে এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন। মেলা উপলক্ষে আশপাশের এলাকায় মানুষ সমাগম করেন, আর অনেক পরিবার আত্মীয়-স্বজনের কাছে দাওয়াতও দেন। মেলায় এবার শিশুদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। বাবা-মায়ের হাত ধরে এসে তারা মিষ্টি, রঙ-বেরঙের বেলুন ও বিভিন্ন খেলনা কিনে নিচ্ছে। আরও পড়ুন: কুশিয়ারার তীরে মাছের মেলা, ১২ কোটি টাকার বেচাকেনার আশা কালীমন্দিরের সামনে প্রধান সড়কের পাশে শতাধিক বিক্রেতা ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ বিক্রি করছেন। তবে চলতি বছর ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই অন্য মাছ কিনছেন। তবুও রীতি মেনে সঙ্গে রাখছেন একজোড়া বেগুন। মেলায় অংশ নেয়া ব্যবসায়ীরা জানান, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে আসেন এবং সকাল থেকেই বেচাকেনা ভালো হয়। আয়োজক কমিটির সদস্য সুজিত দাস বলেন, এই মেলা শুধু বেচাকেনার জন্য নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। বহু বছর ধরে স্থানীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠুভাবে এটি পরিচালিত হচ্ছে। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই মেলা শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে। এখন এটি শুধু একটি হাট নয়, বরং সামাজিক মিলনমেলা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক জীবন্ত নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।