চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক কেমিক্যাল ও অন্যান্য পণ্য আগুন ও বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কিন্তু জায়গার অভাবে এই পণ্যগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হচ্ছে না। গত চার বছর ধরে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ, বন্দর ও জেলা প্রশাসন সীতাকুণ্ডে ১০ একর জায়গা বরাদ্দের জন্য চিঠি চালাচালি করছে।বন্দরের বিভিন্ন শেড ও ইয়ার্ডে বর্তমানে বিপজ্জনক পণ্যবাহী ৩৭১টি কন্টেইনার রাখা আছে। এর মধ্যে ৩২৮টি কন্টেইনার কিছুটা নিলামযোগ্য হলেও ৪৩টি কন্টেইনার সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে। এসব কন্টেইনার এতটাই জরাজীর্ণ হয়ে গেছে যে আগুন বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে এই পণ্যগুলো সরানোর জন্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজকে প্রতিমাসে চিঠি দিলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এসব কন্টেইনার আগে কাস্টম হাউজে হস্তান্তর করা হয়েছিল নিলামের জন্য। আরও পড়ুন: পুরান ঢাকাজুড়ে কেমিক্যাল গোডাউন যেন ‘গণহত্যার ফ্যাক্টরি’, অসহায় প্রশাসন! চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, যত দ্রুত পণ্যগুলো ডেলিভারি বা ধ্বংস করা হবে, বন্দর ততটাই ঝুঁকিমুক্ত থাকবে। আন্তর্জাতিক বন্দরের জন্য এ ধরনের ঝুঁকি নেয়া নিরাপদ নয়। বিশ্বব্যাপী আমাদের অবস্থান আরও সমুন্নত করতে হলে সমস্যা সমাধান জরুরি। বন্দরে থাকা কন্টেইনারগুলোতে রয়েছে থিনার, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সালফেট, সোডিয়াম সালফেটের মতো সাধারণ কেমিক্যাল। এছাড়া আছে সালফিউরিক অ্যাসিড, জিঙ্ক অক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড, মিথানল, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, ফসফরিক অ্যাসিড, ইথাইল অ্যাসিটেট ও কস্টিক সোডা-যেগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ দীর্ঘ চার বছর ধরে চিঠি চালাচালি করে সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায় ১০ একর জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার আশায় রয়েছে। সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, জায়গা বরাদ্দ হলে বিপজ্জনক পণ্যের ঝুঁকি ও পরিবেশের হুমকি থাকবে না। এছাড়া অন্যান্য পণ্যও সহজে নিলামে বিক্রি করা যাবে। শুধু ইয়ার্ডে নয়, বন্দরের পি শেডেও রয়েছে ১ হাজার ১২টি প্যাকেজ কেমিক্যাল ও বিপজ্জনক পণ্য। এর মধ্যে কমপক্ষে ১২২টি প্যাকেজ দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজ থেকে নামানো শিল্প কাঁচামালের ডেলিভারি নেয়ার ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে নিলামের অপেক্ষায় থাকা কেমিক্যাল ও অন্যান্য পণ্য ধ্বংস প্রক্রিয়া জটিল করছে। অনেক সময় ল্যাব টেস্ট ও মামলাসংক্রান্ত কারণে নিলাম আটকে থাকে। আরও পড়ুন: একের পর এক আগুন: পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা নয় তো? কাস্টম বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, আমলার জটিলতা ও নির্দিষ্ট সময়ের পরীক্ষার সীমাবদ্ধতার কারণে নিলামে সমস্যা হচ্ছে। নিরপেক্ষ দলের তদারকি প্রয়োজন। সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানান, কিছু প্রশাসনিক জটিলতা ছিল; যা এখন নিরসন হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে সিলেটে সোডিয়াম নাইট্রোক্লোরাইডবাহী চারটি কন্টেইনার ধ্বংস করা হয়েছিল। এছাড়া কম ঝুঁকির কেমিক্যাল ও নষ্ট পণ্যবাহী একশোর বেশি কন্টেইনার গত এক বছরে চট্টগ্রামে ধ্বংস করা হয়েছে।