জাতীয় প্রেস ক্লাবে মূল্যবোধ আন্দোলনের উদ্যোগে জুলাই সনদ, গণভোট ও নির্বাচনী এজেন্ডায় আধিপত্যবাদবিরোধী গণআকাঙ্ক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিফলনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৫) বেলা ১১ টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে জুলাই সনদ, গণভোট ও নির্বাচনী এজেন্ডায় আধিপত্যবাদবিরোধী গণআকাঙ্ক্ষা ও ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিফলনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে মূল্যবোধ আন্দোলন৷ সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রীয় পলিসিতে এলজিবিটি, সমকামিতা ও ট্রান্সজেন্ডার প্রতিরোধের দাবি জানানো হয়। মূল্যবোধ আন্দোলনের মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মাদ সাদাত বলেন, ফ্যাসিবাদের আমল থেকেই আমরা ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু নিয়ে প্রতিবাদ করে আসছি। যার কারণে সরকার পাঠ্যপুস্তকে শরিফ-শরিফার আপত্তিকর গল্প বাদ দিতে বাধ্য হয়। ট্রান্সজেন্ডার সুরক্ষা আইন পাশ করার পাঁয়তারা হয়েছিলো। আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। ২৪-এর ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ সহ শত শত শহীদ ইসলামি মূল্যবোধে তাড়িত হয়েই হাসিমুখে তাদের জীবন দান করে গেছেন। আবু সাঈদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার এলজিবিটি বিরোধিতার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিদ্যমান। শহীদ ওসমান হাদি ভারতীয় আধিপত্যবাদকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি এলজিবিটি ও ট্রান্সজেন্ডারের নামে পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের পথেও বাধা হয়ে উঠেছিলেন। আমরা দেশের নীতি নির্ধারক মহল, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষক–বুদ্ধিজীবীগণকে সভ্যতা ও মূল্যবোধ বিনাশী সমকামী বিকৃতাচার প্রতিষ্ঠার অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে আসছি। আরও পড়ুন: হাদি হত্যা: প্রধান আসামি ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ তিনি আরো বলেন, আপনারা এও জানেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেই একজন চরমপন্থী সমকামী নিজেকে কখনো ট্রান্সনারী আবার কখনো সমকামী পুরুষ বলে দাবী করে চরম আপত্তিকর অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত হয়েছে। সে বিশিষ্ট গবেষক ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং জনাব আসিফ মাহতাব উৎস- এ দুজন সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে বারবার হত্যার প্ররোচনা দিয়ে আসছে। তাদের শিরশ্ছেদকৃত মাথা দিয়ে ফুটবল খেলার কার্টুন অঙ্কন করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করে সে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই সমকামী পুরুষের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক জিডি করা হয়েছে। এই হত্যা প্ররোচনা ও হুমকির বিরুদ্ধে ২৫০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক যে, আজ পর্যন্ত কোনো আইনপ্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কেবল তাই নয়, সেই সমকামী প্রকাশ্যে পুলিশের নাকের ডগায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বসে সমকামী বিয়ের অধিকারের দাবীতে অনশন করেছে এবং লাগাতার কুৎসিত গালাগালিসহ হত্যার হুমকি দিয়েই চলেছে। অথচ বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী সমকামিতা নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই সমকামীর অপরাধকে আমলে নেয়া হচ্ছে না। প্রতীয়মান হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অপরাধের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে চরম পক্ষপাতমূলক ও বৈষম্যপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তার প্রমাণ, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আটক ও বিচারে অনাকাঙ্ক্ষিত শ্লথ গতি এবং ড. সরোয়ার ও আসিফ মাহতাবকে হত্যা হুমকি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া। রক্তস্নাত গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত সরকারের এহেন বৈষম্যপূর্ণ আচরণে আমরা প্রচন্ড সংক্ষুব্ধ। তবে আমরা হাদির দেখানো পথ ছেড়ে পিছু হটবো না। আমরা দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে জানাতে চাই-জান্নাতের পাখি হয়ে উড়ে গেছে হাদি, রেখে গেছে স্বপ্ন তার, এ মাটি সইবে না আর,জেঁকে বসা কোনো আধিপত্যবাদি। আজ আমরা দুই ধরণের আধিপত্যবাদের শিকার। ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যবাদ এবং এলজিবিটি ও ট্রান্সজেন্ডারবাদের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ বা কালচারাল ফ্যাসিজম। অতীব দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত সূক্ষ্ম কৌশলে বিভিন্ন শব্দ বা পরিভাষার মারপ্যাঁচে দেশবাসীকে ধোঁকা দিয়ে বাংলাদেশে সমকামী বান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠার নীল নকশা বাস্তবায়নে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। সেই পরিভাষাগুলোর অন্যতম হলো লিঙ্গ বৈচিত্র্য, লিঙ্গ সমতা, সাম্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) রাষ্ট্র ইত্যাদি। ইসলামের দৃষ্টিতে লিঙ্গ কেবল দুইটি- নারী ও পুরুষ। হিজড়া কোন লিঙ্গ নয়, এটি লিঙ্গ প্রতিবন্ধিতা। নারী-পুরুষ বৈশিষ্ট্যের আধিক্যের বিবেচনায় একজন হিজড়া নারী বা পুরুষ হিসেবে সাব্যস্ত হন এবং সে হিসেবেই তিনি পূর্ণাঙ্গ মানবিক মর্যাদা লাভ করেন। অপরদিকে নারী হয়ে পুরুষের বেশধারণ করা, পুরুষ হয়ে নারীর বেশ ধারণ করা, হরমোন থেরাপি ও অস্ত্রপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তনের চেষ্টা এবং সমকামিতা ইসলামে সম্পূর্ণরূপে হারাম। সারা বিশ্বের উলামায়ে কেরাম ট্রান্সজেন্ডারকে কুফরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক (Inclusive) রাষ্ট্র আসলে কী? ‘অন্তর্ভুক্তি’ বা ‘Inclusion’ একটি আন্তর্জাতিক পরিভাষা। আমি বা আপনি এই শব্দের দ্বারা কী বুঝি বা না বুঝি তাতে কিছুই যায় আসে না। জানতে হবে অন্তর্ভুক্তি বলতে এই পরিভাষার প্রণেতারা কী বুঝাতে চান। এলজিবিটি বা সমকামী অন্তর্ভুক্তি জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বের কাছে অন্তর্ভুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কোন দেশ বা সমাজ কতটুকু এলজিবিটি বা সমকামী-বান্ধব তা পরিমাপের জন্য পাঁচটি ক্ষেত্রে UNDP-র ৫১টি সূচক রয়েছে। এই সূচকগুলোকে বলা হয় এলজিবটিআই ইনক্লুশন ইনডেক্স (LGBTI Inclusion Index) । এই সূচকগুলো নিশ্চিত করা হলে যে ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ আমরা পাবো সেখানে,১. জাতীয় সংসদে সমকামীদের কোটা থাকবে। [2.8]২. স্কুলের শিক্ষাক্রমে সমকামী আচরণসহ বিভিন্ন ধরণের যৌনতাসংক্রান্ত তথ্য থাকবে। [1.7]৩. সমকামিতা ও ট্রান্সজেন্ডার পরচিতি বৈধ হবে। সমকামিতা বিরোধী কোনো আইন থাকবে না। [2.1,2.2,2,3]৪. সমকামিতা প্রমোটকারি এনজিওদের রেজিস্ট্রেশন ও কার্যক্রম অবাধ হবে। [2.7 a,b]৫. (জনগণের ট্যাক্সের টাকায়) সরকারকে এইডসসহ জটিল রোগে আক্রান্ত সমকামীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। [4.9,4,10] (উল্লেখ্য এইডস মূলত একটি সমকামিতা-উদ্ভূত রোগ) তিনি আরো বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মিটিং শেষে ‘ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। অন্য একটি বড় রাজনৈতিক দল রেইনবো নেশনের কথা বলছেন। সারা পৃথিবীতেই রেইনবো শব্দ ও সিম্বলটি এখন সমকামী আন্দোলনকে রিপ্রেজেন্ট করে। ফলে বিবিসির সাংবাদিকরা যখন সেই দলের স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যকে প্রশ্ন করেন, ‘রেইনবো নেশন নামে ভবিষ্যৎমুখী নতুন ধারার সামাজিক চুক্তির যে চিন্তা সেখানে আধুনিক যুগের রেইনবো মুভমেন্ট বিবেচনায় আছে কিনা। কারণ বর্তমান বিশ্বে ট্রান্সজেন্ডার এবং সমকামী অধিকার আন্দোলনে রেইনবো শব্দটি জনপ্রিয়।’- তার উত্তরে সরাসরি না-বোধক উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি সবই কিন্তু একবারে করতে পারবেন এমন কোনো কথা নাই। সেটা করার জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করারও একটা ব্যাপার আছে।’ যদি আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার রেইনবো নেশনের কথাও ধরি, আমরা দেখতে পাই: ১৯৯৪ সালে নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার ‘রেইনবো নেশন’ গঠন করেন, যার ধারাবহিকতায় ১৯৯৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে ট্রান্সজেন্ডারদের সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করে এবং ২০০৬ সালে আফ্রিকার প্রথম দেশ এবং বিশ্বে পঞ্চম দেশ হিসেবে সমকামী বিবাহকে বৈধতা প্রদান করে। প্রশ্ন জাগে: এত বড় একটি রাজনৈতিক দলের বুদ্ধিজীবিদের জ্ঞানভাণ্ডারে শব্দের এমন আকাল কেন পড়লো যে সমকামী-বান্ধব শব্দই তাদের খুঁজে নিতে হলো? সংবাদ সম্মেলনে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এর সহযোগী অধ্যাপক ও মূল্যবোধ আন্দোলনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন বলেন, আপনারা অবগত আছেন যে চায়না, রাশিয়া এবং তুরস্ক এলজিবিটির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএসএইডের মাধ্যমে আমাদের দেশে এলজিবিটি-বান্ধব সমাজ গঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প DEI তথা Diversity, Equity & Inclusion এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি DEI প্রোগ্রামকে radical and wasteful প্রোগ্রাম আখ্যায়িত করে সমস্ত DEI প্রোগ্রাম বাতিল করে দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশে ইউএসএইডের সমস্ত ফান্ড বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেই কোন রাজনৈতিক দল বা সরকারের জন্য ১৮ কোটি মানুষের মূল্যবোধের বিপক্ষে গিয়ে শুধুমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সন্তুষ্ট করার জন্য এলজিবিটি-বান্ধব পলিসি গ্রহণ করা নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ এবং গণআকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণের নামান্তর। তিনি বলেন, অগণিত ইসলামপ্রেমিক জনতার রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু থেকেই ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি আদর্শিক অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে এলজিবিটি তথা সমকামী এজেন্ডার প্রতি সরকারের সুস্পষ্ট পৃষ্ঠপোষকতা দিন দিন আরও প্রকাশ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে, যা জাতির ধর্মীয় চেতনা, সামাজিক কাঠামো এবং নৈতিক ভিত্তিকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এখানে আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এলজিবিটি বান্ধব কার্যক্রমের অল্প কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরছি। ১. ঈদ শোভাযাত্রা ২০২৫-এ সমকামিতার প্রতীক হিসেবে পরিচিত ‘ইউনিকর্ন‘ প্রদর্শন করা হয়। ২. নববর্ষ ২০২৫-এর ড্রোন শোতে সমকামী আন্দোলনের প্রতীক “গে এঞ্জেল” প্রদর্শন করা হয়। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৫-এ মুহিন ওরফে মোহনা নামক একজন ট্রান্সজেন্ডারকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজ হাতে ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান করেন।৩. বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনায় শব্দ ও বর্ণনার মারপ্যাঁচে এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ৪. উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ সমাজকল্যাণ তহবিল থেকে পতিতাদের ‘মর্যাদা ও স্বীকৃতিস্বরূপ’ ২ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত ও সমকামী ট্রান্সজেন্ডারদের পক্ষে কাজ করা ‘নারীপক্ষ’ নামে একটি বিতর্কিত এনজিও সংস্থার হাতে এই আর্থিক প্রণোদনা তুলে দেওয়া হয়।৫. ট্রান্সজেন্ডার ও পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিতদের ব্যাপক অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘মৈত্রীযাত্রা‘-তে সরকারঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও সংস্কার কমিশনের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন যেখানে সমকামিতার প্রতীক ‘গে এঞ্জেল’ এর প্রদর্শনীসহ এলজিবিটির পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়। ৬. আলেম ও সচেতন নাগরিকদের শত অনুরোধ উপেক্ষা করে এলজিবিটি এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের অফিস খোলার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। ৭. প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়- যা পরে ব্যাপক বিরোধিতার কারণে সরকার স্থগিত করতে বাধ্য হয়। কিন্তু প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ট্রান্সজেন্ডার কোটা ঠিকই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।৮. শ্রম আইন সংস্কারের নামে ILO C190 সনদ অনুমোদন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পোশাক শিল্পসহ দেশের প্রত্যেক কর্মক্ষেত্রে এলজিবিটি-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করা যাবে।৯. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬-এর প্রবেশপথে এলজিবিটির প্রতীক রংধনুর আদলে স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। ১০. জেন্ডার এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুবিধার্থে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ নামকরণ করা হয়েছে।এতসব ঘটনার পর এই সরকার ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এমন দাবী বিশ্বাসযোগ্য নয়। ড. মোহাম্মাদ সরোয়ার হোসেন আরো বলেন, আর এদেশের কালচারাল ফ্যাসিজমের গডফাদার ও ইসলামোফোবিক হিসাবে সুপরিচিত মিডিয়া টাইকুনরা এবং এনজিওগোষ্ঠী আজ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর বঞ্চনার কথা না বলে সভ্যতাবিধ্বংসী এলজিবিটি বান্ধব সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে লাগাতার কাজ করে যাচ্ছে সেই ২০০৭ সাল- যখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় জনপরিসরে প্রথম সমকামিতা অধিকার দাবী করে- তখন থেকে। একদিকে, পুরোনো ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসররা ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির মদদে ফিরে আসার জন্য হাজারো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। অন্যদিকে, সুযোগ সন্ধানী ইসলামবিদ্বেষীরা দেশকে এলজিবিটি এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধর্মহীন করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। এমনই সঙ্কটকালে আমরা দেশের বিবেকবান, চিন্তাশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিকগণকে অধিকতর সচেতন হতে আহবান জানাই। আগামী দিনে যারাই ক্ষমতায় আসুন না কেন তাদেরকে নতুন সংবিধান প্রণয়নে দেশ ও জনগণের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের কথা মাথায় রাখতে অনুরোধ জানাই। সমকামী অধিকার আন্দোলনের প্রতি তীক্ষ্ণ নজর রাখতে অনুরোধ করি। একবিংশ শতাব্দীর নতুন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী তথা ইন্দো-যায়ন ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সাবধান হোন। আল্লাহ আমাদের শহীদদের রক্তস্নাত এই জমিনকে সকল প্রকার সুরক্ষা প্রদান করুন! তিনি আরো বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমনভাবে গণভোটের আয়োজন করছে যেখানে একজন ভোটারকে হয় সবগুলো বিষয়ের সাথে একমত হতে হবে, নয়তো সবগুলো বিষয়কে নাকচ করতে হবে। একগ্লাস দুধ আর এক চামচ বিষ রেখে বলা হচ্ছে খেলে সব খেতে হবে; যদি বিষ না খাও, তবে দুধও দেওয়া হবে না। আমরা এই ধরণের গনভোটকে ইনসাফ পরিপন্থী ও জনআকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনে অযথার্থ বলে মনে করি। ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন কোন সচেতন সুনাগরিকের জন্য ৭, ৮, ২১, ও ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা অবস্থায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অস্বস্তিকর, আবার জুলাই সনদের অন্যান্য ন্যায়ভিত্তিক ও প্রয়োজনীয় ধারাগুলোকে নাকচ করে দিয়ে ‘না’ ভোট দেওয়াও অসংগত। তারা তাহলে কী করবে? এমতাবস্থায় আমাদের মৌলিক দাবী হচ্ছে, গণভোটের বিষয়ে ও জুলাই সনদে এই ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হোক: সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে- যার ব্যাখ্যা হবে সংবিধানে বা দন্ডবিধিতে কুরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী কোন আইন বা বিধি-বিধান থাকতে পারবে না। যদি এই দাবী পূরণ করা এই সরকারের পক্ষে সম্ভব না হয়, আধিপত্যবাদবিরোধী সকল ভোটার যেন স্বাচ্ছন্দে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে পারেন সেজন্য জুলাই সনদের ৭, ৮, ২১ ও ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের ভবিষ্যৎ পরবর্তী সংসদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক এবং এই চারটি অনুচ্ছেদের বিষয়গুলোকে গণভোটের আওতামুক্ত রেখে ‘হ্যাঁ/না’ ভোটের আয়োজন করা হোক। যদি এই দাবীও পূরণ করা এই সরকারের পক্ষে সম্ভব না হয়, গণভোটে তিনটি অপশন রাখা হোক: হ্যাঁ, আপত্তিসহ হ্যাঁ (জুলাই সনদের ৭, ৮, ২১, ২২ নং অনুচ্ছেদে আপত্তিসহ হ্যাঁ) এবং না। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন মূল্যবোধ আন্দোলনের সমন্বয়ক মুহসিনুদ্দীন মাহমূদ এবং সাবেক সচিব জনাব নূরুল আলম।