ম্যাচ হচ্ছে না, গেট বন্ধ, ক্ষুব্ধ দর্শকরা

ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবি পরিচালকের বিতর্কিত মন্তব্যে সব ধরনের ক্রিকেট বয়কট করছে ক্রিকেটার ওয়েলফায়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। নির্ধারিত সময়ে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গেট খোলা হলেও দুপুর ১টার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে করে স্টেডিয়ামের গেটগুলোর বাইরে ভিড় করা দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। চলতি বিপিএলে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা পর্বের প্রথম দিনে দুপুর ১টায় মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। কিন্তু গতকাল বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের ক্রিকেটারদের কটুক্তি করার অভিযোগে কোয়াবের বয়কটে শামিল হয়ে মাঠেই আসেনি কোনো দল। এতে করে নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি ম্যাচ এমনকি আদৌ হবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। যদিও দুপুর সাড়ে ১১টার মধ্যেই ক্রিকেটারদের অনুশীলনের জায়গাসহ ম্যাচের জন্য মাঠ প্রস্তুত করা হয়। শুধু মাত্র সেন্টার উইকেটের কাভার সরানো হয়নি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, ক্রিকেট অপরারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম ও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু মাঠের ভেতরে ঘুরে গেছেন, নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণ আলোচনাও করেন। দুপুর ১২টায় খোলা হয় দর্শকদের প্রবেশ গেট। তবে ঘণ্টা খানেক পরই সব গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২ নম্বর গেটের সামনে দেখা যায় দর্শকরা ভিড় করছেন, ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কেউ মাটিতে বসে পড়েছেন, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গেটেও একই দৃশ্য। টিকিট হাতে দর্শকরা গেটের বাইরে জড়ো হয়েছেন। তবে প্রত্যেক গেটই একদম চূড়ান্তভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সাজিদ নামের ২৬ বছর বয়সী এক দর্শক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এটা কোনো কথা...এত কষ্ট করে খেলা দেখতে এসেছে কিন্তু এভাবে কিছু না জানিয়ে হুট করে বন্ধ করাটা সত্যিই দুঃখজনক।’ আবিদ নামের আরেকজন বলেন, ‘দর্শকদের কোনো মূল্য নেই এদের কাছে। এরা এদের মতো করে চলে দর্শকদের কথা ভাবে না।’ সব গেটের ভিতরেই নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বিসিবি। বিসিবি মেইন গেটে সেনাবাহিনীর সদস্যরা সারি হয়ে দাড়িয়েছেন। পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য আসছেন সবখানে। এখনও পর্যন্ত হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে বিসিবির নিরাপত্তাকর্মীদের একজন নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘এখনও তারা মুখেই ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তবে কতক্ষণ এভাবে থাকবে জানিনা। দ্রুত কোনো একটা সিদ্ধান্ত আসা দরকার । না হলে দ্রুতই হামলার ঘটনা ঘটতে আরে।’ অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড গলায় দেখলেই অনেকেই ছুটে আসছেন। কৌতূহলী চোখে জিজ্ঞাসা করছেন খেলা কখন শুরু হবে! বা আদৌ খেলা হবে কিনা। তারাও অপেক্ষায় আছেন কখন একটা সিদ্ধান্ত আসবে। এসকেডি/আইএন