সর্ষের ভেতরেই ভূত! সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের পাহাড় যেখানে জমা থাকে, সেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুরক্ষিত সার্ভারই হয়ে উঠেছিল এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার আয়ের খনি।নাগরিকদের অতি সংবেদনশীল এনআইডি তথ্য কেনাবেচার এক ভয়াবহ সিন্ডিকেট উন্মোচন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মাত্র ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজারেরও বেশি নাগরিকের তথ্য পাচার করে প্রায় ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার।সিআইডি জানায়, চক্রের মূল হোতা গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ এবং আউটসোর্সিং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আলামিন। আলামিনের কাছে থাকা ইসির একটি ‘গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড’ ব্যবহার করেই চলত এই ডিজিটাল লুটতরাজ। সাপ্তাহিক ৪-৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সেই এক্সেস হাবীবুল্লাহর হাতে তুলে দিতেন আলামিন। আর সেই চাবি দিয়ে সার্ভারে ঢুকে হাবীবুল্লাহ ফেসবুক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রতিটি তথ্যের বিনিময়ে নিতেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আরও পড়ুন: এনআইডি সংশোধন চালু নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ততদন্তে বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য। গত এক সপ্তাহে তারা ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং গত এক মাসে মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য পাচার করেছেন। বাজারদরে যার অবৈধ মূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা। এই অর্থ দিয়ে হাবীবুল্লাহ রাজধানীতে ফ্ল্যাটসহ গড়ে তুলেছেন বিশাল বিত্ত-বৈভব, যাপন করতেন বিলাসবহুল জীবন।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁও এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুই ‘তথ্য-চোর’কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে সার্ভারে ঢুকে তথ্য বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন।বর্তমানে পল্টন মডেল থানায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও রাঘববোয়াল জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।