তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় খুলনা অঞ্চলে বোরো ধানের বীজতলা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহে অধিকাংশ বীজতলা হারিয়েছে স্বাভাবিক সবুজ রং। ফ্যাকাশে, হলদেটে ও লালচে হয়ে কোথাও কোথাও ধানের চারা পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমির বীজতলায় একই চিত্র। সবুজ বীজতলার বদলে বিবর্ণ রূপ নিয়েছে ধানের চারা। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি জানুয়ারি মাসে খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার গড় ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে টানা চারদিন ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল পুরো অঞ্চল। এই সময়েই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে বোরো ধানের বীজতলা।টানা কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহে অধিকাংশ বীজতলাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ ব্যাহত হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে সব জমিতে রোপণ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৫ শতাংশ জমিতে রোপণ শেষ হয়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে নতুন করে বীজতলা তৈরির চিন্তা করছেন, যা বাড়তি খরচ ও সময়ের ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরোর বীজতলার সবুজ চারা হলুদ রং ধারণ করেছে। কিছু জায়গার চারা মরেও গেছে। ছবি: সময় সংবাদডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের কৃষক তাপস কুমার দাস বলেন, এত শীতে চারা ঠিকমতো বাড়ছে না। অনেক জায়গায় চারা লালচে হয়ে পচে যাচ্ছে। নতুন করে বীজতলা করলে খরচ আরও বাড়বে। নতুন করে বীজতলা করা না গেলে ধানের চাড়া রোপন করা যাবে না। তাহলে আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।একই এলাকার আরেক কৃষক হাসানুজ্জামান বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছরই শীত বেশী পড়েছে। টানা কয়েকদিন কুয়াশায় ঢাকা ছিলো পুরো দিন। ফলে বীজতলা বাড়তে পারেনি। অনেক বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি অফিস থেকে সহায়তা না করলে আমাদের ধানের উৎপাদন এ বছর হওয়ার সম্ভাবনা নেই।তবে কৃষি বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে চারা দিয়ে সহায়তা করা হবে। উৎপাদন লক্ষ্য নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা নেই বলেও দাবি তাদের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সুবির কুমার বিশ্বাস বলেন, শীত ও কুয়াশাজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প বীজতলা ও চারা সরবরাহের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা আশাবাদী।চলতি মৌসুমে খুলনা জেলায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।