ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) টেলিফোনে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুই মন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে তাদের দৃঢ় সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’ ফোনালাপে আরাঘচি উল্লেখ করেন যে, ইরানে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সূচনা হয়েছিল শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শ্রমিক বিক্ষোভের মাধ্যমে। তবে পরবর্তীতে ‘ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী উপাদানগুলোর সংগঠিত সম্পৃক্ততার’ ফলে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও আল জাজিরার। বিবৃতি অনুযায়ী, ইরান যেকোনো বহিরাগত হুমকির বিরুদ্ধে তার সীমান্ত দৃঢ়ভাবে রক্ষা করবে বলেও জানিয়েছেন আরাঘচি। আরও পড়ুন: ইরানের পক্ষ নিয়ে কঠোর অবস্থানে সৌদি আরব এসময় তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের কিছু মন্তব্যকে উসকানিমূলক ও হস্তক্ষেপমূলক বলে সমালোচনা করেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর দায়িত্ব হলো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের সতর্কতার মধ্যে সৌদি আরব ইরানকে জানায় যে, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র সংবাদ সংস্থা এএফপিকে এ তথ্য জানায়। খবর ডেইলি সাবাহ’র। সূত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে চলমান বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর অভিযানের জবাবে পদক্ষেপ নিতে পারে–এমন সতর্কতা দেয়ার পরই এই বার্তা ইরানকে পৌঁছে দেয়া হয়। আরও পড়ুন: দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ: রিপোর্ট সৌদি সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে বলেন, ‘সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে জানিয়েছে যে তাদের বিরুদ্ধে নেয়া কোনো সামরিক অভিযানের অংশ তারা হবে না এবং সে উদ্দেশে সৌদি ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।’ বার্তাটি ইরানের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সরকারের ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্র।