গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এদের মধ্যে অর্ধেকের মতো নিবন্ধন করেছেন প্রবাস থেকে, অর্ধেক দেশের ভেতর থেকে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এমন তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা। প্রথমবারের মতো এবার আইটি–সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। গত ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল নিবন্ধনের সময়। এই সময়ের মধ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী ও কয়েদিরা দেশের ভেতর থেকে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন। আর প্রবাস থেকে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন ভোটার। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নিবন্ধনকারী এসব ভোটারের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পেপার পাঠানো হচ্ছে। ভোটাররা ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার ফেরত পাঠাবেন। আগামী ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে তারা ভোট দিতে পারবেন। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করা হয়েছে ফেনী–৩ আসনে ১৬ হাজার ৯৩ জন। সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বাগেরহাট–৩ আসনে ১ হাজার ৫৯৫ জন। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন করেছেন কুমিল্লাবাসী—১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা জেলায় ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন, চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ হাজার ২৯৭ জন ও নোয়াখালী জেলায় ৬১ হাজার ২৫১ জন। অন্য জেলাগুলোতে ৫০ হাজারের নিচে নিবন্ধন হয়েছে। সবচেয়ে কম নিবন্ধন হয়েছে বান্দরবানে ৪ হাজার ৬৯৫ জন। যেভাবে ভোট দেওয়া যাবে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো খামে দুটি ব্যালট পেপার থাকবে। একটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের, অন্যটি সংসদ নির্বাচনের। এ ক্ষেত্রে ভোটার ইসির পাঠানো খামটি পাওয়ার পর অপেক্ষা করবেন। যখন প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়ে যাবে, তখন তারা অ্যাপে প্রবেশ করে তার আসনের প্রার্থীদের দেখতে পারবেন। আর ভোটারের হাতে থাকা ব্যালটে কেবল প্রতীক থাকবে, কোনো নাম থাকবে না। অ্যাপে প্রার্থীর তালিকা দেখে ব্যালটে ভোট দিয়ে এবং গণভোট দিয়ে ফিরতি খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিস বা পোস্টবক্সে ফেলে দিলে তা সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে যাবে। এরপর সেই ভোট নির্বাচনের দিন গণনা করবেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। কোনো ব্যালট পেপার নির্বাচনের পরে এসে পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না। এমওএস/কেএএ/