খামেনির সহযোগী ও অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তাদের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তেহরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের উপর দমন-পীড়নের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ট্রাম্প।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনসিএস) সচিব আলী লারিজানি এবং আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে দেয়া হয়। যারা তেহরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ‘নৃশংস’ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বলে বলা হয়। এদিকে, মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের আহ্বানে ইরানি জনগণের পাশে যুক্তরাষ্ট্র দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। আরও পড়ুন:হোয়াইট হাউজে পৌঁছেছেন মাচাদো, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের লক্ষ্য কী ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে, ট্রেজারি বিভাগ ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে নৃশংস দমন-পীড়নের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ ইরানি নেতাদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করছে। মানবাধিকারের উপর সরকারের অত্যাচারী নিপীড়নের পিছনে যারা রয়েছে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে ট্রেজারি প্রতিটি হাতিয়ার ব্যবহার করবে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়। নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিদের সম্পদ জব্দ করা হবে এবং আমেরিকান নাগরিকদের তাদের সাথে ব্যবসা করা অবৈধ হবে। আল জাজিরা জানায়,  ইরান ইতিমধ্যেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায়, এই পদক্ষেপগুলো মূলত প্রতীকী, তবে বিক্ষোভের মধ্যে এটি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। লারিজানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা। এই সপ্তাহের শুরুতে, ট্রাম্প ইরানীদেরকে সরকারি প্রতিষ্ঠান দখল করার এবং খুনি ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করার আহ্বান জানানোর পর, লারিজানি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইরানিদের হত্যার জন্য অভিযুক্ত করেন। তিনি এক্সে লেখেন, ‘আমরা ইরানের জনগণের প্রধান খুনিদের নাম ঘোষণা করছি: ১- ট্রাম্প ২- নেতানিয়াহু।’ বেশ কয়েকটি অধিকার গোষ্ঠীর মতে, ইরানে চলমান বিক্ষোভে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে, ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যাদেরকে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উস্কে দিয়েছে এবং বলেছে যে, বিক্ষোভ চলাকালীন সশস্ত্র হামলায় ১০০ জনেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।আল জাজিরা স্বাধীনভাবে এই পরিসংখ্যান যাচাই করতে পারেনি। বিক্ষোভের সময় কর্তৃপক্ষ দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যার ফলে নিহতের সংখ্যা এবং উভয় পক্ষের দাবি যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। আরও পড়ুন:আমার জন্যই ইরানের বিক্ষোভকারী মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পেয়েছেন: ট্রাম্প  ডিসেম্বরে ইরানে মূল্যম্ফীতির কারণে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পরিণত হয়।