ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেলো পদ্মাসেতু। মুঠোফোনের মাধ্যমে এখন পদ্মাসেতুর টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব মুঠোফোনের মাধ্যমে পদ্মাসেতুর ডি-টোল সেবা ব্যবহার করেন। এ সময় তিনি পদ্মাসেতু ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ট্যাগ রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সরকারি সফরে খুলনায় যাওয়ার পথে এ সেবা ব্যবহার করেন। পদ্মাসেতু ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ট্যাগ রেজিস্ট্রেশন সেন্টার পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, মানুষের যাত্রা অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও উন্নত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, নগদভিত্তিক টোল আদায় ব্যবস্থায় গাড়ির গতি কমে গিয়ে মূল্যবান সময় অপচয় হয়। ডি-টোল চালুর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে টোল প্রসেসিং সম্ভব হবে, ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে এবং মূল্যবান সময় সাশ্রয় হবে। বিশেষ সহকারী আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যমুনা সেতু, মেঘনা–গোমতী সেতুসহ দেশের বৃহৎ সেতুসমূহে ডি-টোল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এটি দেশের মহাসড়ক ও সেতুগুলোর জন্য একটি একীভূত টোলিং ব্যবস্থা হিসেবে কার্যকর হয়। এ সময় ডি-টোল সেবা ব্যবহার করেন এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহা. আব্দুর রফিক, হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট (উপসচিব) ফজলুল জাহিদ পাভেল, হেড অব কমিউনিকেশন মোহাম্মদ সফিউল আযমসহ এটুআই ও আইসিটি ডিভিশনের একাধিক গাড়ি। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানায়, ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় এটুআই তৈরি করা এই সিস্টেমটির পাইলট কার্যক্রম ১৫ সেপ্টেম্বর পদ্মা সেতুতে শুরু হয়। এরপর থেকে ছয় হাজারের বেশি যানবাহন নিবন্ধিত হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় চার কোটি টাকা লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে এবং সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান (বিকাশ, নগদ, ট্যাপ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি, এনসিসি ব্যাংক পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি) যুক্ত হয়েছে। এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা সহজে ও নির্বিঘ্নে ডি-টোল সেবা ব্যবহার করতে পারছেন।’ উল্লেখ্য, ডি-টোল সিস্টেমে নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট বা অ্যাপের প্রয়োজন নেই। গ্রাহকের বিদ্যমান যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, ট্যাপ) কিংবা ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটালি টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে। ইএইচটি/কেএএ/