রূপগঞ্জে সড়কের পাশে ফেলে যাওয়া হয় যুবকের মরদেহ, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো পিবিআই

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাজীপুরের আবু রায়হান রিপন (৩৫) নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার লাশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার চার দিন পর এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জেলা শাখা।বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ। জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি ভোরে রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান এলাকায় নিঝুম পল্লি রিসোর্টের দক্ষিণ পাশে রূপগঞ্জ–কালীগঞ্জ মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে আবু রায়হান রিপনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলে নিহত রিপনের ভাই মো. লাল মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি জেলা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলে সংস্থাটির একাধিক টিম ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. ইয়াসিন (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। আরও পড়ুন: নিখোঁজের ২১ দিন পর শিক্ষিকার বাসায় মিললো মা–মেয়ের মরদেহ পিবিআই জানায়, নিহত আবু রায়হান রিপন গাজীপুর জেলার বাসন এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে রিপনের লাশ রূপগঞ্জে মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়। পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ জানুয়ারি রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার দেওয়ানবাগ এলাকা থেকে মো. ইয়াসিনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে এসব তথ্য জানায় এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত ইয়াসিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রিপন হত্যাকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত ও গ্রেফতারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত আসামি ইয়াসিনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।