গাইবান্ধায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন যেন ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত’ কর্মকাণ্ড!

গাইবান্ধার সাঘাটায় কয়েকটি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার ৮ থেকে ১০টি স্থানে ইঞ্জিনচালিত শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যে নদীর তলদেশ কেটে বালু তুলছে একটি প্রভাবশালী চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে মাসিক চুক্তির বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলছে।সরেজমিনে দেখা যায়, করতোয়া, বাঙালি ও আলাই নদীর মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া ও হিন্দুপাড়া এলাকায় ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। উত্তোলিত বালু উপজেলা বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে ট্রাক্টরযোগে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যার ফলে গ্রামীণ এলাকার কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কোনো দৃশ্যমান অভিযান দেখা যায়নি। ফলে বালু উত্তোলন যেন ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত’ কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। আরও পড়ুন: পর্যটক আকর্ষণ থাকলেও জাফলংয়ের খাসিয়া পল্লিতে নেই স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থানীয় কলেজছাত্র শরিফ মিয়া বলেন, ড্রেজার ব্যবহারের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নদী ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে, ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক হুমকির মুখে পড়ছে। বালুবাহী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলাবালি বেড়েছে এবং জনভোগান্তিও বেড়েছে। নদী পাড়ের আব্দুল কুদ্দুস জানান, সরকারিভাবে নদী খননের পর মনে হয়েছিল ঘরবাড়ি নিরাপদ। কিন্তু এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গভীর গর্ত জীবনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। কচুয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, দিনরাত ড্রেজারের শব্দ ও ট্রাক চলাচলের কারণে জীবনযাপন কঠিন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দ্রুত অবৈধ ড্রেজার সরানো, বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে। তবে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবীর জানান, যারা আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।