ভেজালের ছোঁয়ায় সুনাম হারাচ্ছে মাদারীপুরের খেজুর গুড়

মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড় আজ ভেজালের কারণে বিলুপ্তির পথে। হাটবাজারে খাঁটি খেজুর গুড়ের নামে বিক্রি হচ্ছে রঙ, চিনি ও বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রিত গুড়, যা খেলে কিডনি বিকলসহ ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে।খেজুর রস খেজুর গুড়, দক্ষিণের দ্বার মাদারীপুর’; ভেজাল গুড়ের কারণে জেলার এই ব্রান্ডিং আজ বিলুপ্তের পথে। সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর থেকে বিকেলের দিকে খেজুর গাছের পরিচর্যা শেষে গাছে রসের হাড়ি বসাতে ব্যস্ত গাছিরা। পরদিন ভোরে গাছ থেকে নামানো রস দিয়ে খাঁটি গুড় তৈরি হয়। তবে চাহিদার চাপ ও অধিক মুনাফার জন্য অনেক এলাকায় রঙ, চিনি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল গুড় তৈরি হচ্ছে। জেলার কালিকাপুর, সরদারকান্দি, জাফরাবাদ, তাল্লুক, ঘটমাঝি, ঝিকরহাটি, মোস্তফাপুরসহ অন্তত ২৫ থেকে ৩০টি এলাকায় এই ভেজাল গুড় তৈরি হয়ে হাটবাজারে ছড়িয়ে পড়ছে। ক্রেতারা প্রকৃত খেজুর গুড় এবং ভেজাল চেনা প্রায় অসম্ভব বলে অভিযোগ করেন। ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ভেজাল এবং খাঁটি গুড় চেনা খুব কঠিন। আমরা চাই ভেজালমুক্ত গুড় খেতে। দাম বেশি হলেও তা দিতে রাজি। মূলত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কারণে খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। জেলা বাসিন্দারা ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য নতুন চারা রোপণের দাবি জানিয়েছেন। তথ্য অনুযায়ী, খাঁটি গুড়ের কেজির দাম ১০০০-১২০০ টাকা হলেও ভেজাল গুড় বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। আরও পড়ুন: মাানিকগঞ্জে রস ছাড়াই তৈরি হচ্ছে গুড় মাদারীপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা বাদল হোসেন বলেন, আগে খেজুর গুড়ের গন্ধ ও স্বাদ দারুণ হত। এখন ভেজালের কারণে জেলার ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন। পুরাতন কোর্ট এলাকার গুড় বিক্রেতা আয়নাল শরীফ জানান, আমরা ৩০ বছর ধরে খাঁটি গুড় বিক্রি করছি। এতে রঙ বা কেমিক্যাল নেই, শুধুমাত্র অল্প চিনি মেশানো হয়। এখানকার খেজুর গুড়ের সুনামও আছে। মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. সরদার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান বলেন, ভেজাল গুড় খেলে কিডনি বিকলসহ মারাত্মক ক্যানসার হতে পারে। শিশুরাও চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ে। এটি তৈরি ও বিক্রি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে কেউ ভেজাল গুড় বিক্রি করতে না পারে। পাশাপাশি ক্রেতারা সচেতন থাকলে এই ব্যবসা স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে।