প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। সাময়িক চাঙা অর্থনীতি - দৈনিক যুগান্তরের প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে চাঙা হয়ে উঠেছে দেশের অর্থনীতি। নির্বাচনের কারণে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডও। একদিকে বেড়েছে সরকারি ব্যয়, অন্যদিকে প্রার্থীসহ তাদের ধনাঢ্য সমর্থক ও আত্মীয়স্বজনেরও খরচ বাড়ছে। পাশাপাশি পছন্দের প্রার্থীর অনুকূলে খরচ করতে প্রবাসীরা দেশে বাড়তি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। এতে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহও বেড়েছে। এসব অর্থের বড় অংশই খরচ হচ্ছে অনুৎপাদনশীল খাতে। যে কারণে নির্বাচনি মাসে দেশের মূল্যস্ফীতির হার আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।৩৫ বছর ধরে কৃষি খাতে কোনো সংস্কার নেই - দৈনিক বণিকবার্তার প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে কৃষিজমির পরিমাণ প্রতিদিনই কমছে, প্রায় ৫৬ শতাংশ কৃষিজমি উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার হচ্ছে না, ৪০ শতাংশ কৃষক পরিবার ভূমিহীন বর্গাচাষী, যথাযথ মজুরি পান না দেশের অর্ধেক কৃষক। যাদের হাতে বেশি জমি তারা কৃষিকাজ করেন না। একদিকে বাড়ছে কৃষি উৎপাদন ব্যয়, অন্যদিকে ফসলের উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন না কৃষক। অনেক উপাদানের জন্য কৃষক নির্ভরশীল বহুজাতিক কোম্পানির ওপর। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে যান্ত্রিকীকরণ এখনো অনেক পিছিয়ে। অর্থনৈতিক সংস্কারবিষয়ক টাস্কফোর্স অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করে কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধির হার কমছে। বিপরীতে বাড়ছে খাদ্যশস্য আমদানি। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো প্রথাগত কৃষিকে পেছনে ফেলে প্রযুক্তি (ড্রোন, স্মার্ট সেচ) ও উন্নত অবকাঠামোনির্ভর চাষাবাদ এবং উচ্চমূল্যের ফসলে মনোযোগ দিচ্ছে। একই সঙ্গে টেকসই চাষাবাদ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সরঞ্জামের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করছে। এসব সম্ভব হয়েছে দেশগুলোর কৃষি খাতে সময়ানুগ নীতি সংস্কার ও সরকারি সহায়তার মাধ্যমে।পোস্টাল ভোটই বড় চালেঞ্জ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ভোটের অপব্যবহার রোধ নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। দেশে প্রথমবারের মতো এই ভোটের আয়োজন নিয়ে এরই মধ্যে জালিয়াতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে সাধারণত ভোটার ভোটকক্ষে প্রবেশের পর ব্যালট পেপার হাতে পান এবং সেখানেই গোপন কক্ষে প্রবেশ করে গোপনীয়তার মাধ্যমে ভোট দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করেন। ব্যালট পেপার ভোটকক্ষের বাইরে নিয়ে এসে ভোটের গোপনীয়তা লঙ্ঘন নির্বাচনী আইনে অপরাধ। ভোট কেনা-বেচার ক্ষেত্রে এই অপরাধ সংঘটিত হতে পারে বলে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা। কিন্তু পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে ব্যালট পেপার ভোটগ্রহণের অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হাতে পৌঁছে গেছে এবং সম্প্রতি বাহরাইনে একটি বাসায় পোস্টাল ব্যালটের অনেক খাম গণনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওমান থেকেও একই ভিডিও ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পোস্টাল ব্যালটের ছবির ছড়াছড়ি।ফুরফুরে মেজাজে বিএনপি, মাঠ গুছিয়েছে জামায়াত - দৈনিক মানবজমিনে খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁওয়ের ঘনবসতিপূর্ণ শহুরে এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ আসনকে ঘিরে বড় দুই বিরোধী শক্তি বিএনপি-জামায়াতের মাঠপর্যায়ের অবস্থান ও কৌশল এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এরমধ্যে দলীয় কোন্দল প্রকট হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকায় এই আসনে ফুরফুরে মেজাজে আছেন বিএনপি’র প্রার্থী আলহাজ এরশাদ উল্লাহ। আর দীর্ঘদিন ধরে মাঠে সরব থাকা জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাসের চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচারণা। চট্টগ্রাম-৮ আসনের বোয়ালখালীকে ধরা হতো বিএনপি’র দুর্গ। তবে দলীয় কোন্দল, অসন্তোষ রয়েছে এ আসন ঘিরে। প্রার্থী ঘোষণার পর কোন্দল আরও বেশি সামনে এসেছে। এখানে সাবেক মন্ত্রী ও এমপি এম মোর্শেদ খান, দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান ও বর্তমান নগর বিএনপি’র আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ- এই তিনজনের গ্রুপিংয়ে বিএনপি’র ভোটাররা ঘুরপাক খাচ্ছে। অসন্তোষ রেখেই সমঝোতা - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন ভাগাভাগি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই অবস্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৩ আসনে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ঝুলে থাকল ৪৭টি আসন। তিনটি দলের আসনের ভাগ জানানো হয়নি। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দল তিনটি হলো-বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। বন্দিদের ৪৬% তিন ধরনের অপরাধে - দৈনিক সমকালের খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের ৭৫টি কারাগারে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্দি রয়েছেন ৮৪ হাজার ৪০০ জন। তাদের মধ্যে হাজতি ৬৩ হাজার ৪৭৮ ও কয়েদি ২১ হাজার ২ জন। কারাগারে বন্দির ধারণক্ষমতা রয়েছে ৪৬ হাজার। ফলে বর্তমানে ৩৮ হাজার ৪০০ জন বন্দি কারাগারে বেশি রয়েছেন। কারাগার থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বন্দিদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট তিনটি অপরাধের আসামি ৪৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কারাগারে রয়েছেন ২০ হাজার ৯৪২ জন। এটি মোট বন্দির এক-চতুর্থাংশ। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ৯ হাজার ১০০ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে আট হাজার ৬০০ জন। এ হিসাবে এই তিন অপরাধে বন্দি ৩৮ হাজার ৬৪২ জন।