গেলো ৬ জানুয়ারি নির্বাচন হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবার হলো এই নির্বাচন। জাকজমকভাবে নির্বাচন হলেও জয়ী নেতাদের বসার কোনো জায়গা নেই। নেই অফিস কিংবা দপ্তর। ২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়ার পর এই প্রথম জকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ছাত্র সংসদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে নির্বাচিত ২১ জন প্রতিনিধি দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি নিলেও কোথা থেকে তারা শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা শুনবেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন কিংবা দাপ্তরিক কার্যক্রম চালাবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জকসুর জন্য কোনো আলাদা ভবন নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনের দ্বিতীয় তলার ২০১ নং কক্ষ রয়েছে ছাত্র সংসদের নামে। তবে শিক্ষার্থী সংসদ না হওয়ায় আওয়ামী লীগ আমলে তা ব্যবহার করতেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ কক্ষটিকেই সংস্কার করে ব্যাবহার উপযোগী করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যদিও নির্বাচিতরা বলছেন, একটিমাত্র কক্ষ দিয়ে শিক্ষার্থী সংসদের কাজ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সরেজমিনে দেখা যায়, অবকাশ ভবনের যে কক্ষটি একসময় ছাত্র সংসদের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সেটি এখন অপরিচ্ছন্ন ও অগোছালো। সেখানে একসঙ্গে বসার মতো জায়গা নেই, নেই দাপ্তরিক কাজের ন্যূনতম পরিবেশ। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা কক্ষ, বৈঠককক্ষ, কম্পিউটার বা নথি সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থাও সেখানে করা সম্ভব নয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশা করেছিলেন, নির্বাচনের পরপরই জকসু সক্রিয় হবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলো সামনে আসবে। কিন্তু অফিস ও অবকাঠামো সংকট থাকলে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিলম্ব হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহন খন্দকার জাগো নিউজকে বলেন, জকসু নির্বাচন শেষ হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সংসদটি কীভাবে কাজ শুরু করবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্টতা নেই। প্রতিনিধিরা কোথায় বসবেন, কোথা থেকে শিক্ষার্থীদের কথা শুনবেন এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকলে জকসু নামটা শুধু কাগজেই থেকে যাবে। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজ জাগো নিউজকে বলেন, নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে বড় সাফল্য হিসেবে, কিন্তু নির্বাচনের পর জকসু কীভাবে চলবে সে প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। অফিস, নথি বা নিয়মিত বসার জায়গা ছাড়া একটি ছাত্র সংসদ কার্যকর হওয়া বাস্তবসম্মত নয়। জকসুর নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জকসু কার্যালয় শুধু প্রতিনিধিদের বসার জায়গা নয়, এখানে বিদেশি অতিথি, বিভিন্ন সংস্থা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা আসবেন। একই সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের সমস্যা ও দাবি নিয়ে আমাদের কাছে আসবেন। কিন্তু এখনও যদি একটি নির্দিষ্ট কার্যালয়ই না থাকে, তাহলে এই দায়িত্বগুলো কীভাবে পালন করবো, সেটাই বড় প্রশ্ন। জকসুর স্বার্থে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো আদায়ে সংগঠিতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম বলেন, যেহেতু এটি প্রথম জকসু নির্বাচন, তাই আগে থেকে নির্ধারিত কোনো স্থান ছিল না। আমরা আপাতত ওই কক্ষটিকে সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করবো। এছাড়া আরও কোথায় নতুন করে শিক্ষার্থীদের সংসদের জন্য অফিস করা যায় সে বিষয়েও আমরা আলোচনা করছি। আশা করছি এ সমস্যার সমাধান হবে। টিএইচকিউ/এসএনআর