বলিউডে এমন কিছু তারকা আছেন, যারা ইচ্ছা করেই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন আড়ালেই রাখেন। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা তাদেরই একজন। সিনেমা নির্বাচন হোক বা ফিটনেস রুটিন-সব ক্ষেত্রেই তিনি বিশ্বাস করেন ভারসাম্যে। সম্প্রতি ৪১ বছরে পা রেখেছেন সিদ্ধার্থ। তারকা খ্যাতির চাপের মাঝেও তিনি ফিটনেস ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে চলাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি শেয়ার করেছেন তার ডায়েট ও খাদ্যাভ্যাসের কথা। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই অভিনেতা কীভাবে নিজের খাবার বেছে নেন- সহজ কিন্তু প্রোটিনসমৃদ্ধ ব্রেকফাস্টসিদ্ধার্থ মালহোত্রার কাছে সকালের নাস্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ব্যস্ত শুটিংয়ের দিনে এমন খাবারই তিনি খান, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায়। তার দিনের শুরু হয় সাধারণত সেদ্ধ ডিম আর মিষ্টি আলু দিয়ে। প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের এই সহজ সমন্বয় তাকে সারাদিন চাঙা রাখে। তার প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং সবুজ শাকসবজি থাকে দুপুরের খাবার মানেই ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন’দুপুরে তিনি পছন্দ করেন পরিষ্কার ও পুষ্টিকর খাবার। চর্বিহীন প্রোটিনের সঙ্গে প্রচুর সবুজ শাকসবজি তার প্লেটে থাকেই। সিদ্ধার্থের প্রিয় কম্বিনেশনের মধ্যে রয়েছে মুরগির বুকের মাংস ও পালং শাক। কাজের চাপ বেশি হলে দুপুরের খাবারে সেদ্ধ আলুও যোগ করেন তিনি। হালকা ডিনার করারাতের খাবারে সিদ্ধার্থ বরাবরই সংযত। তিনি গ্রিলড ফিশ খেতে ভালোবাসেন, বিশেষ করে যখন পেটের জন্য হালকা কিছু দরকার হয়। ভারী খাবার এড়িয়ে চলাই তার অভ্যাস। দিনে মাত্র তিনবেলা কেন?অনেকেই যেখানে ঘন ঘন নাস্তা করেন, সেখানে সিদ্ধার্থ দিনে মাত্র তিনবার খাবার খান। তার মতে, আগের খাবার হজম করার জন্য শরীরকে যথেষ্ট সময় দেওয়া জরুরি। তাই অপ্রয়োজনীয় স্ন্যাকিং তিনি এড়িয়ে চলেন। ফল নিয়ে একটু আলাদা ভাবনাসিদ্ধার্থ প্রতিদিন তাজা ফল খান না, তবে শুকনো ফল তার ডায়েটে নিয়মিত থাকে। তাজা ফলের মধ্যে কলা তার সবচেয়ে পছন্দের। তার মতে, কলা দ্রুত শক্তি দেয় এবং পেটও ভরিয়ে রাখে। সামুদ্রিক খাবারের প্রতি ভালোবাসাতিনি সামুদ্রিক খাবার খেতে পছন্দ করেন। তাজা মাছ, চিংড়ি, গলদা চিংড়ি আর ওয়েস্টার-সবই তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। ঘি ও বুলেট কফিতিনি ঘি খেতে ভালোবাসেন এবং প্রয়োজনে তা ডায়েটে রাখতেও দ্বিধা করেন না। অতিরিক্ত শক্তির দরকার হলে, বিশেষ করে ওয়ার্কআউটের আগে, তিনি মাঝে মাঝে ঘি দিয়ে তৈরি ব্ল্যাক কফি পান করেন-যা পরিচিত বুলেট কফি নামে। তবে এটি তার দৈনন্দিন অভ্যাস নয়। চা বা কফির প্রতি তিনি মোটেই আসক্ত নন। রুটি, চিট ডে ও মিষ্টির প্রতি দুর্বলতাখাবারের ক্ষেত্রে সিদ্ধার্থ বিভিন্ন শস্য দিয়ে তৈরি রুটি পছন্দ করেন। চিট ডেতে তিনি হালুয়া, পুরি বা কালো ছোলা খান। জাঙ্ক ফুডের বদলে ঘরে তৈরি খাবারই তার পছন্দ। তবে পিৎজা বা বার্গার একেবারে বাদ দেন না। মিষ্টির ব্যাপারে তার দুর্বলতা রয়েছে জিলাপি ও চকলেট, বিশেষ করে ডার্ক চকলেট। ভারসাম্য রাখতে তিনি গুড় বা আলুবোখারার মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্পও বেছে নেন। মায়ের হাতের বিরিয়ানি ও প্রিয় বাইরের খাবারসব খাবারের ঊর্ধ্বে সিদ্ধার্থের প্রিয় মায়ের হাতের মাটন বিরিয়ানি। বাইরে খেতে গেলে তিনি সুশি পছন্দ করেন, বিশেষ করে যদি তা তাজা মাছ দিয়ে তৈরি হয়। আরও একটি বছরে পা দিয়ে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা প্রমাণ করছেন ফিটনেস মানে কড়া ডায়েট বা ট্রেন্ড নয়। বরং সচেতনতা, ভারসাম্য আর নিজের শরীরের কথা শোনাই সুস্থ থাকার আসল রহস্য। সূত্র: এনডিটিভি আরও পড়ুন:ডায়েটের জাদুতে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণ করে ১৮ কেজি ওজন কমালেন আমির খান শীতে ঠান্ডা পানি স্বাস্থ্যকর নাকি শুধু স্বস্তির অনুভূতি এসএকেওয়াই/