তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ সংকটে যখন বন্ধ হতে বসেছে অনেক গ্যাসের চুলা; তখন যেন পোয়াবারো বৈদ্যুতিক চুলা-কুকারের। কেননা মাসখানেক ধরে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে তিনগুণ। এতে দাম কিছুটা বাড়লে তাতে খুব একটা মাথাব্যথা নেই গ্রাহকের।সরজমিনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছেন ক্রেতারা। কারণ, একদিকে রয়েছে মূল্যছাড় পাওয়ার সুযোগ, অন্যদিকে রয়েছে এলপিজি সংকটের কারণে গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান। ক্রেতারা বলছেন, গ্যাসের সংকটের কারণে বৈদ্যুতিক চুলা দেখছি। যদি কোনো ছাড় বা অফার থাকে, তাইলে কিনব। গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এটি রাখা প্রয়োজন। রান্নার জন্য সবচেয়ে ভালো অপশন। বৈদ্যুতিক চুলায় রান্না আরামদায়ক, ঘরে বসে রান্না করা যায়। তবে বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্টোররুমের যা ছিল সব বিক্রি হয়ে গেছে, ডিসপ্লেতে থাকা ইনফ্রারেড ও ইন্ডাকশন চুলাও সব বিক্রি হয়ে গেছে। ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। আরও পড়ুন: গ্যাস সিলিন্ডার যেন চোরাই পণ্য, চলছে ব্যবসায়ীদের ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’ শুধু মেলায় নয়, রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটেও বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা বেড়েছে। আগে যেখানে একদিনে ৫-৬টি চুলা বিক্রি হতো, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০টি। দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা মেটাতে বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে। তারা জানান, প্রোডাক্টের দাম ৩০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০৫০ বা ৩১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্টক সীমিত, তাই সাপ্লাই ঠিকমতো দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে তিনগুণ চাহিদা বাড়ার কথা জানালেও পাইকারিতে দাম বাড়েনি বলে দাবি আমদানিকারকদের। তবে অনেক ধরনের চুলা বাড়তি দামেও মিলছে না; এমন সংকটের কথাও জানান তারা। আমদানিকারকরা বলেন, ডিমান্ড বেড়ে গেলে সাপ্লাই কমে যায়, মার্কেটে শর্টেজ হয়। ইম্পোর্ট করতে গেলে কমপক্ষে ৪৫ দিন সময় লাগে। গ্যাস সংকটের কারণে রানিং অবস্থায় চাহিদা আরও তিনগুণ বেড়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদা বাড়লে দাম বাড়তে পারে। কিন্তু অর্থনীতির এই সাধারণ নিয়ম যেন অতিরিক্ত দামের চাপ ভোক্তাদের ওপর না পড়ে, সেদিকে সরকারের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।