উৎপাদন খরচের চেয়ে কমে ডিম-মাংস বিক্রি, দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে টাঙ্গাইলের খামারিরা

উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম ও মাংস বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন টাঙ্গাইলের প্রান্তিক খামারিরা। এতে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন অনেক খামারি। যদিও লোকসান কাটাতে খামারিদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর।প্রায় এক মাস ধরে ডিম ও পোল্ট্রি মুরগির দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় ভোক্তারা স্বস্তিতে থাকলেও চরম লোকসানে পড়েছেন খামারিরা। টাঙ্গাইলের খামারিদের দাবি, মুরগির খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে ডিম ও মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে দেউলিয়া হওয়ার পথে অনেক খামারি। খামারিরা বলছেন, এক বস্তা খাদ্য কিনতে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে বর্তমানে ডিমের দাম প্রতি পিস মাত্র সাত টাকা। এতে খামারে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি ডিমে দুই টাকারও বেশি ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে টিকে থাকা সম্ভব নয়। আরও পড়ুন: নিরাপদ পানির অভাবে হুমকিতে বাগেরহাট আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারের বাচ্চা উৎপাদন অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রান্তিক খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তায় বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদন খরচের একটি অংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করতে পারে। যদি ১০ টাকা উৎপাদন খরচের মধ্যে সরকার তিন টাকা দেয়, তাহলে খামারির প্রকৃত খরচ দাঁড়াবে সাত টাকা। এতে খামারিরা টিকে থাকতে পারবেন, ডিমের বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং সাধারণ মানুষও স্বস্তি পাবে। খামারিদের সংকট সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর। টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান বলেন, খামারিদের শতভাগ সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে রোজার আগেই একটি স্থায়ী সমাধান হবে। খামারিদের অভিযোগ, নানা সংকটের কারণে দেড় যুগের ব্যবধানে টাঙ্গাইলে প্রায় ৮০ শতাংশ পোল্ট্রি ফার্ম বন্ধ হয়ে গেছে।