ইরানে সামরিক হামলা থেকে কেন পিছু হটলেন ট্রাম্প?

ইরানে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের অবস্থান থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আপাতত কিছুটা সরে এসেছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তেহরানের তাৎক্ষণিক কিছু ব্যবস্থা সম্ভাব্য সামরিক হামলা এড়ানো গেছে বলে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন।ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে নতুন করে রক্তপাত হলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে, এমন সতর্কতা বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এসময় ইরানে সামরিক হামলা কেন এড়িয়েছেন এমন প্রশ্নে বলেন, সিদ্ধান্তটি তিনি নিজেই নিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন,কেউ আমাকে রাজি করায়নি। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গতকাল আটশর বেশি ফাঁসির পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কাউকে ফাঁসি দেয়া হয়নি—ফাঁসিগুলো বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি আমার সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে। আরও পড়ুন: ‘ইরানে আঘাত হানতে প্রস্তুত নয়’ মার্কিন সেনাবাহিনী! তবে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেছে সৌদি আরব ও কাতার। দেশ দুটির আশঙ্কা, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অস্থিতিশীল হতে পারে। ইসরাইলও কূটনৈতিক ও সামরিক প্রস্তুতিতে যুক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউস বলছে, ইরান ইস্যুতে এখনও ‘সব বিকল্প ব্যবস্থা খোলা’ আছে। নতুন করে সহিংসতা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার বার্তা দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুগের অবসানে বিশ্ববাসীকে বিক্ষোভকারীদের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের শেষ রাজা শাহ’র ছেলে রেজা পাহলভি। শুক্রবার ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী গার্ডের ওপর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এতে আরও প্রাণহানি আটকানো যাবে বলে দাবি করেন রেজা। আরও পড়ুন: ৮০০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে ইরান: হোয়াইট হাউস তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটবেই। আমি শুধু ইরানকে স্বাধীন হতে সহায়তা করছি। ইরানের মানুষ ঠিক করবেন তাদের পরবর্তী নেতা কে হবেন। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে ইতালির রাজধানী রোমে বিক্ষোভ করেছেন মানবাধিকারকর্মী ও প্রতিবাদকারীরা। শুক্রবার রোমের সিটি হলের সামনে জড়ো হয়ে ইরানি জনগণের প্রতি সমর্থন জানান এবং শাসনব্যবস্থার অবসানের দাবি তোলেন তারা। এ সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী রেজা পাহলভির প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।গত বছরের ২৮ ডিসেম্বরে অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ইরানে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরবর্তীতে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ও ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে রূপ নেয়।