স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও এনসিপি নেতার পাল্টাপাল্টি মামলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঈশ্বরগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইন একটি মামলা করেছে। এতে এনসিপির ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক মোজাম্মেল হককে প্রধান আসামি তিনজনের নাম উল্লেখ করেন। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে আরেকটি মামলা করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালের দৌরাত্ম্য, অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গত বছরের ১২ নভেম্বর মানববন্ধন করেন এনসিপি নেতাকর্মীরা। এতে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। ওই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত তিন মাস ধরে প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের লোকজন দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। এ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইন বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি সাধনের অভিযোগ এনে এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হককে (৩১) প্রধান আসামি করে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক থানায় নিয়মিত মামলা করেন তিনি। অপরদিকে বৃহস্পতিবার এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেন। এতে হাসপাতালের সিকিউরিটি গার্ড শাকিলকে প্রধান আসামি ছাড়াও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দুটি মামলা (আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী) দ্রুত বিচার আইনে করা হয়েছে। বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসাইনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও সাড়া দেননি তিনি। তবে এনসিপির ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও ময়মনসিংহ জেলা সংগঠক মোজাম্মেল হক বলেন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। এখানে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পান না। রোগীদের জোর করে দালালের মাধ্যমে নামসর্বস্ব ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়। সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ওষুধ ও দামি ইনজেকশন বাইরে বিক্রি করা হয়। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। এতে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে হাসপাতালের দালাল চক্র ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতে গেলে আমার বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আযম জাগো নিউজকে বলেন, এনসিপি নেতা মোজাম্মেল হক মামলার এক অংশে বলেছেন ডা. জাকির হোসাইনের ইন্ধনে তার ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। এ বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করবে। ডা. জাকির হোসাইনের করা মামলাটিও আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দুটি মামলার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কামরুজ্জামান মিন্টু/এমএন