‘ইসলামপন্থীদের ভোট তিন বাক্সে বিভক্ত’, ‘বিএনপির মিত্ররা তাকিয়ে জাতীয় সরকারের দিকে’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। ইসলামপন্থীদের ভোট তিন বাক্সে বিভক্ত- এটি দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রধান খবর। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ২৬৮ আসনে তারা নির্বাচন করবে। বাকি ৩২টি আসনে দলটি পছন্দের কোনো দলের প্রার্থীকে সমর্থন দেবে। অর্থাৎ ৩০০ আসনেই ইসলামী আন্দোলন ভোটে থাকছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ইসলামপন্থীদের ভোট ‘এক বাক্সে’ আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলো। এখন ইসলামপন্থীদের ভোট স্পষ্টত ‘তিন বাক্সে’ বিভক্ত হয়ে পড়ল। এর রেশ ভোটের মাঠে কতটা-কীভাবে পড়ে, সেটি এখন দেখার বিষয়। রাজধানীতে এক বছরে ৬৪৩ বেওয়ারিশ লাশ- দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান খবর এটি। এই প্রতিবদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা ৬৪৩টি লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন কবরস্থানে দাফন ও সত্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে রায়েরবাজারে ৪৬১ জন এবং জুরাইন কবরস্থানে ১৭৫ জনের লাশ দাফন করা হয়। পোস্তগোলা শ্মশানে অন্য ধর্মের সাতজনের লাশ দাহ করা হয়। সেই হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় ৫৪ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশ দাফন ও সত্কার করা হয়। গড়ে প্রতিদিন দাফন ও সত্কার করা হয় প্রায় দুজনের লাশ। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।  এদিকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ মাসে দেশে মোট চার হাজার ৭৩২টি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা গেছে। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৫৭০ লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়। খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি- এটি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সমাজের সর্বস্তরের নাগরিকরা তাদের হূদয়মথিত শোক, শ্রদ্ধা আর প্রাণোত্সারিত ভালোবাসা জানিয়েছেন নাগরিক শোকসভায়। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার পরিবেশ ছিল অন্যরকম। খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে সেখানে বক্তারা খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবনের ত্যাগ, সংযম, উদারতা, অভাবনীয় দৃঢ়তাপূর্ণ নেতৃত্ব এবং তার প্রতি রাষ্ট্রীয় জিঘাংসা-অবহেলার নানা দিক তুলে ধরেন নানা মাত্রায়।  বক্তারা বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন ক্ষণজন্মা ও অমিত নেতৃত্বের অধিকারী। তিনি সাধারণ রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন রাজনৈতিক আদর্শ। বাংলাদেশে সামরিক এবং বেসামরিক স্বৈরতন্ত্র বিরোধী সংগ্রামে তার অবদান অনন্য। দেশপ্রেমকে তিনি আজীবন লালন করেছেন। তিনি বলতেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, কিন্তু প্রভু নেই, দেশই আমার আসল ঠিকানা’। এ কারণেই শেষযাত্রায় মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। খালেদা জিয়া কঠিন সময়েও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিতেন। তার মধ্যে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ ছিল। ছিলেন পরমতসহিষ্ণু। জাতির এই সন্ধিক্ষণে যখন তার উপস্থিতি, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখনই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। কিন্তু তার আদর্শ চির অম্লান। এ দেশের মানুষ অনন্তকাল তাকে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় স্মরণ করবেন। কারণ যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয়, তাহলে বেগম খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে। তার আদর্শই হবে আগামীর বাংলাদেশের চালিকাশক্তি। বিএনপির মিত্ররা তাকিয়ে জাতীয় সরকারের দিকে- এই শিরোনাম দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন সমঝোতার পর বিএনপির বিদ্রোহীদের অনেকেই মাঠে থাকায় কিছুটা চাপা ক্ষোভ আছে মিত্রদের মধ্যে। কিন্তু তা সত্ত্বেও মিত্র দলগুলোর নেতারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কারণ তাদের প্রত্যাশা-পরাজিত হলেও হয় তারা জাতীয় সরকারে স্থান পাবেন, নয়তো জায়গা হবে উচ্চকক্ষে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে দলগুলোর এমন মনোভাবের কথা জানা গেছে।  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের কথা বলেছি, যাদের সঙ্গে আমাদের ঐকমত্য আছে তাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করব আমরা। মিত্রদের সেখানে কীভাবে রাখা হবে নির্বাচনের পর তা নির্ধারণ করা হবে। বিপিডিবির লোকসান বেড়েছে ৯৪ শতাংশ- দৈনিক বিণক বার্তা পত্রিকার প্রথম পতার প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকায়, যা আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ছিল ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সংস্থাটির নিট লোকসান ৯৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অথচ বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় সাশ্রয়, এ খাতের বিশেষ আইন বাতিল, সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, ট্যারিফ নেগোসিয়েশনসহ বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। এসব উদ্যোগের কোনোটাই যদিও এ খাতের আর্থিক চাপ কমাতে পারেনি। বরং বিদ্যুৎ খাতের একক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বিপিডিবির নিট লোকসান যেমন বেড়েছে, তেমনি সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমার বিপরীতে বেসরকারি খাতের প্রভাব আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।  দেশের বিদ্যুৎ খাতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার বিপুল পরিমাণ দায়দেনা রেখে যায়। তা কমাতে গত অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা (আগের বকেয়া ২৭ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকাসহ) ভর্তুকি দেয়। বিপুল পরিমাণ এ ভর্তুকি দেয়ার পরও বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ খাতে গড় সিস্টেম লস কমার চেয়ে উল্টো বেড়েছে।