নির্বাচনের আগে লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গণঅভ্যুত্থানের সময়ে লুট হওয়া ৫ হাজারেরও বেশি অস্ত্রের মধ্যে এখনো উদ্ধার না হওয়া ৩০ শতাংশ।সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আলোচিত একাধিক হত্যাকাণ্ড এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহার করা হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। হঠাৎ করেই যেন বেড়ে গেছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। কিছু ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে অবৈধ অস্ত্র। কয়েক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশন উদ্ধার করে জার্মানির তৈরি অত্যাধুনিক পিস্তল।গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা এবং কারাগার থেকে যে পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছে, তার ৩০ শতাংশ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি।এ নিয়ে যে শঙ্কার কথা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলে আসছিলেন, তা যেন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। চাঞ্চল্যকর একাধিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবহার হয়েছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র।পুলিশের তথ্যমতে, গণ অভ্যুত্থানের সময় লুট হয়েছিলো বিভিন্ন ধরনের ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং সাড়ে ৬ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ। ২০২৬ এর মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৪ হাজার ৪৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৪ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ। এখনো উদ্ধার হয়নি এমন অস্ত্রের মধ্যে আছে চাইনিজ রাইফেল ১১৪টি, চাইনিজ এসএমজি ৩১টি, সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু পিস্তল ২০৭টি, নাইন এমএম পিস্তল ৪৫৫টি এবং শটগান ৩৯৩টি।পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্র যেখানেই থাকুক তা উদ্ধার করা আমাদের জন্য একটা প্রায়োরিটি। গোয়েন্দা নজরদারি, আমাদের অভিযান এবং পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে যদি জনগণ সম্পৃক্ত হয় তাহলে আমার মনে হয়, একটা বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব।তিনি বলেন, নিয়মিতই অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। আশা করি, নির্বাচনের আগে একটা বড় অংশ আমরা উদ্ধার করতে পারাব।আরও পড়ুন: ঝোপে লুকিয়ে ছিল ডাকাত দল, টের পেয়ে ধরল পুলিশ পুলিশের এমন আশ্বাসে আশ্বস্ত নন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মো. তৌহিদুল হক। নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঝুঁকি থাকার দাবি করে তিনি বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের প্রমাণ দিতে হবে। ড. তৌহিদুল হক বলেন, এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার করে যেভাবে টার্গেট কিলিং হয়েছে, এক গ্রুপ ব্যবহার করেছে কিন্তু যে ব্যবহার করেছে সে হয়তো অস্ত্রটা লুট করেনি। ফলে যারা অপরাধের সুবিধাভোগী বা পৃষ্ঠপোষকরা কিন্তু আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।তিনি বলেন, অভিযানের নামটা শুধু ভয়াবহ কিছু একটা দিলে হবে না। অভিযানটা চালাতে হবে কঠোর এবং জোরালোভাবে।আইনশৃঙক্ষলা বাহিনীর সোর্সগুলো ঠিকমতো কাজ করলে তখনই অভিযানের সফলতা আসবে বলেও মনে করেন ড. তৌহিদুল।টার্গেট কিলিংগুলো নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে একটা ভয় তৈরি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি আবার টার্গেট কিলিংয়ের প্রসঙ্গ তৈরি হয় তাহলে নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ আছে কিনা তা নিয়ে সবাইকে একটা ভাবনার মধ্যে ফেলে দেবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীগুলোর মনোবল ফেরাতেও কার্যকর পদক্ষেপ চান বিশ্লেষকরা।